দুই দলের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হতে চলেছে
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫১
সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দেশ এখন ব্যর্থ রাষ্ট্রের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো অবিলম্বে তাদের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে বছর পার হবার আগেই বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এমন আশঙ্কা এড়ানোর জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে একটি সমঝোতা জরুরি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান, কেন্দ ীয় কমিটির সদস্য লেখক ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ, ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, ড. শাহদীন মালিক, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বহীন আচরণের কারণে দেশ আজ এক মারাত্মক সংকটের মুখে। সর্বত্র এক নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে দেশের ভবিষ্যত্। এ পরিস্থিতিতে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের একটা পথ খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হলে দেশে নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে আজ যে অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে জন্য অন্যতম দায়ী হলো আমাদের বিচার বিভাগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতা উপলব্ধি না করেই উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছে, তার ফলেই গোটা জাতি আজ এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তার মধ্যে নিপতিত হয়েছে। সুতরাং বিচার বিভাগ কিছুতেই উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারে না।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব- এমনটি যারা বলছেন বা চিন্তা করছেন তারা নিশ্চিত বোকার স্বর্গে বাস করছেন। দলীয় সরকার ছাড়া অন্য কোন উপায়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব-সে বিষয় নিয়ে এখনই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলকে আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বলছেন অক্টোবর মাসে সরকার পদত্যাগ করবে কিন্তু সংসদ ভাঙবে না। এমন কথা আইনের কোথায় আছে তা আমার জানা নেই। সরকার পদত্যাগ করলে সংসদ কিভাবে না ভেঙে পারে তা বুঝছি না। দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এমন মন্তব্য করে শাহদীন মালিক বলেন, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলেই দেশ আজ একটি অকার্যকর ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। যদি এখনই কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয় তাহলে বছর পার হওয়ার আগেই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তখন একটি নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দরকার তা থাকবে না। ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এখন আর রাজনৈতিক দল নেই। এখানে দুই নেত্রীর একক সিদ্ধান্তই মূল। গণতন্ত্র বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বলতে দলগুলোর কিছুই নেই। এখন তারা দুটি পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ আজ এক চরম সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নিপতিত। একের পর এক হরতাল, চারদিকে অবিশ্বাস্য ধরনের সহিংসতা ও নাশকতা, ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন ইত্যাদি দেশে এক কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্যই শুধু ভয়ানক হুমকি সৃষ্টি করছে না, অর্থনীতিকেও পঙ্গু করে দিতে পারে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, বিরাজমান সংঘাতময় অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আন্দোলন করতে চাইলে সরকার বিভিন্ন ধরনের দমন-পীড়নের আশ্রয় নেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও অন্যান্য নেতার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো হয়। সমপ্রতি প্রায় দেড়শ’ নেতাকে বিএনপির কেন্দ ীয় অফিস থেকে গ্রেফতারের পর অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় তাদেরকে আদালতে দেখা গেলেও আদালত সে ব্যাপারে কিছু না বলে তাদের জামিন না দিয়ে উল্টো রিমান্ডে পাঠিয়েছে। সরকারের এমন আচরণ স্বৈরতন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।