ফজরের নামাজের পরই চট্টগ্রাম থেকে লংমার্চের যাত্রা
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫১
হেফাজতে ইসলাম আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাদের লংমার্চ কর্মসূচি চট্টগ্রাম থেকে শুরু করার ঘোষণা দিলেও সকালে ফজরের নামাজের পরপরই তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে বলে জানা গেছে। ঢাকায় মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়ায় চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এমনকি পরিবহন মালিকগণও তাদের যানবাহন ভাড়া দিতে রাজি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হঠাত্ করে সবক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থা বিরাজ করছে। সারা বাংলাদেশ থেকেও হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কাফেলা সকালেই শুরু করা হবে এবং বিভিন্ন সংগঠন আহূত হরতাল কর্মসূচি শুরুর পূর্বেই তারা ঢাকায় পৌঁছবে।
সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বনজ কুমার ইত্তেফাককে বলেন, সরকার যেহেতু ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। সুতরাং তাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হবে। লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকা অতিক্রম না করা পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। একইভাবে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শান্তিপূর্ণ লংমার্চের ক্ষেত্রে তাদের কোন আপত্তি নেই। তবে যে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বসে থাকবে না।
হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক বলেন, লংমার্চের বিরুদ্ধে এরপরও কেউ ষড়যন্ত্র করলে লংমার্চ রুখতে পারবে না। তৌহিদী জনতার কাফেলার সামনে সকল ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার ও প্রশাসনের শিথিল অবস্থার কারণে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়বে। হেফাজতের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যে পরিমাণ লোকজন লংমার্চে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছেন সে পরিমাণ যানবাহন সংকুলান হচ্ছে না।
হেফাজতে ইসলামের সাংবাদিক সম্মেলন
প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি বানচাল করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ কয়েকটি সংগঠন ২৪ ঘন্টা হরতাল ডেকেছে। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নেত্রকোনা, জামালপুরসহ দেশের কয়েকটি স্থানে লংমার্চে বাধা দিতে হেফাজত কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাস না দেয়ার জন্য পরিবহন মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সমপ্রতি চট্টগ্রামের লালদিঘী পাড়ে সরকারের দুইজন মন্ত্রী হেফাজতে ইসলাম ও আল্লামা আহমদ শফী সম্পর্কে মিথ্যা ও হাস্যকর বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এক প্রশ্নের জবাবে আজিজুল হক জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। ৫ লাখ তাওহিদী জনতা অংশ নেবেন। লংমার্চে বাধা দেয়া হলে যেখানে বাধা আসবে সেখানেই তাওহিদী জনতার সমাবেশ হবে।
তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করে আল্লাহ ও রাসুলের অবমাননাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস, সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের ধারা পুনঃস্থাপন করতে পারত। কিন্তু তা না করে হেফাজতকে হুমকি-ধমকি ও নানা ধরনের উপদেশ দেয়া হচ্ছে। হেফাজতের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার মানবাধিকার লংঘন করছে বলে তিনি দাবি করেন।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকার এখনও আলোচনায় বসার জন্য হেফাজতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেয়নি। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদসহ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা হেফাজতের আমীর আল্লামা আহমদ শফীর সাথে সাক্ষাত্ করে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু আহ্বান ও উপদেশ দিয়েছেন। একে আলোচনা বলা ঠিক নয়।
ব্লগারদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে হেফাজত নেতা বলেন, দেশে ইসলাম ও রাসুল (স.) বিরোধী ব্লগারের সংখ্যা কমপক্ষে ৩০০। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের ১৮৪ ব্লগারের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। অথচ দুই-চারজন ব্লগারকে গ্রেফতার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জামায়াতের সাথে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি- জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের কোনো শরিক দলের সাথে হেফাজতের সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক যদি থেকেই থাকে তাহলে তা রয়েছে আওয়ামী লীগের সাথে।