ব্লগার আসিফ তিন দিনের রিমান্ডে

ব্লগার আসিফ মহীউদ্দিনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন ডিবি পরিদর্শক মাইনুল ইসলাম। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম আনোয়ার সাদাত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে আটক ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্ল্যাকআউট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে ১০টি ব্লগ। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে প্রগতিশীল ব্লগগুলো। গতকাল আসিফ মহীউদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী আলাউদ্দিন মোল্লা। এর আগে হেফাজতে ইসলামী নামের একটি সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুব্রত অধিকারী শুভ, মশিউর রহমান বিপ্লব ও রাসেল পারভেজ নামের তিন ব্লগারকে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই বুধবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয় আসিফকে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতিবাদেই দেশব্যাপী গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। শাহবাগে গণজাগরণ আন্দোলন শুরুর পর চট্টগ্রামভিত্তিক হেফাজতে ইসলামের নামে মাঠে নামে কয়েকটি ইসলামী দল। যারা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ এনে তাদের শাস্তি দাবি করে। গণজাগরণ মঞ্চ বন্ধ করে দেয়াসহ যে ১০ জন ‘নাস্তিক’ ব্লগারের ফাঁসির দাবি তোলে হেফাজতে ইসলাম, তাদের তালিকায় আসিফের নাম প্রথমদিকেই ছিল। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে উত্তরায় তার ওপর হামলা হয়। এদিকে আটক ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্ল্যাক আউট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে প্রগতিশীল ব্লগগুলো। ব্লগগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের মৌলবাদ তোষণ এবং ব্লগার গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ ব্ল্যাকআউট। ব্ল্যাক আউটে রয়েছে— আমার ব্লগ, সচলায়তন, মুক্তাঙ্গন, মুক্তমনা, নাগরিক ব্লগ, আমরা বন্ধু, চতুর্মাত্রিক, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ, ইস্টিশন ব্লগ এবং সরব। এর সঙ্গে সংহতিতে রয়েছে প্রগতিশীল ব্লগগুলো। ইস্টিশন ব্লগের ফেসবুক পেজে ব্লগার সুশান্ত দাসগুপ্ত বলেছেন, ‘অনেকেই হয়তো ভাবছেন যে, ব্লগে ব্ল্যাকআউট করে কি লাভ? বিষয়টাতো লাভ-লোকসানের না। ব্লগে, ফেসবুকে সরকার জামায়াত-বিএনপি’র বিরুদ্ধে যে সমর্থন পেয়ে আসছে। ওদের ষড়যন্ত্রমূলক যত দুরভিসন্ধি—উন্মোচন করেছে এই ব্লগাররা। এটা এক বিরাট সমর্থন। এই সমর্থন না পেলে সরকার বুঝবে, ব্লগারদের দাম আছে কি নেই।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে ধরার জন্য কিছুই করতে পারে নাই, কিছুই না। কিন্তু ব্লগাররাই বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ দলিল এবং ছবি। এখন ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে সরকারকে ম্যাসেজ দেয়া হবে যে, আমরা এতোদিন ব্লগে কি করেছি।’