ভারতে ইলিশ রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা

এবার কলকাতার লোকজন পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশের ইলিশের রসনা তৃপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ থেকে কোন ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে না। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতে রপ্তানির জন্য প্রায় ১ বছর ধরে মজুদ করা ১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আটকা পড়েছে। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের মাসুদ ফিশ নামক একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন ইলিশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক নির্দেশে বলা হয়, ইতিমধ্যে যে সকল ইলিশ মজুদ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং রপ্তানি নীতিমালার পরিপন্থি। অবিলম্বে মজুদকৃত ইলিশ স্থানীয় বাজারে বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়। জানা যায়, মজুদকৃত ইলিশের বাজার মূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেয়া এক পত্রে রমজান মাসে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইলিশসহ সকল সাদা মাছ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অনেক চেষ্টা তদ্বিরের পর গত ডিসেম্বর মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অপর এক সার্কুলেশনে জানায়, ইলিশ ছাড়া অন্যান্য সাদা মাছ রপ্তানি করা যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইলিশ বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় দেশের লোক কম মূল্যে ইলিশ মাছ পায় না। তাই জনগণের স্বার্থে ইলিশ রপ্তানির বন্ধ করা হয়। হিমায়িত মত্স্য রপ্তানিকারকের পক্ষ থেকে জানা যায়, বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকের অর্ডারের প্রেক্ষিতে নিষেধাজ্ঞার পূর্বেই বিভিন্ন রপ্তানিকারকগণ বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ স্টক করে। তাছাড়া তাদের ধারণা ছিল অন্যান্য সাদা মাছের ন্যায় ইলিশ মাছের রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়ে যাবে। এদিকে পহেলা বৈশাখ ঘনিয়ে আসায় বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইলিশ মাছ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মত্স্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে পত্র দেয়াসহ বিভিন্নভাবে ধরনা দেয়। এমনকি এফবিসিসিআই এক সময় ইলিশ মাছ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাইলেও গত মার্চ মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একপত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। অপরদিকে বিদেশি আমদানিকারকগণ ইতিপূর্বে মাছের জন্য এলসি এবং নগদ টাকা পাঠানোর কারণে রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বিশেষ করে ভারতের আমদানিকারকগণ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে এ দেশীয় ব্যবসায়ীদের তাগাদা দিতে থাকে। কিন্তু গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা এক পত্রে ইলিশ রপ্তানির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেয়। একই সাথে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা মেটানোর জন্য স্থানীয় বাজারে তা বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওই পত্র পেয়ে হিমায়িত মত্স্য রপ্তানিকারকগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে। এমনকি অনেকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা করার হুমকি দেয়। তারা জানায়, যেহেতু ব্যাংকের টাকায় এ সকল মাছ কিনে মজুদ করা হয়েছে, তাই সরকারকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জানা যায়, গত কয়েকমাস পূর্বে বিডি ফুড নামক একটি প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে মামলা করে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন ইলিশ বিদেশে রপ্তানি করেছে।