সড়ক রেল নৌপথে টিকিট ও গাড়ি নিয়ে প্রশাসনের কড়াকড়ি

হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত নিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। যানবাহন ভাড়া ও ট্রেনের টিকিট না দিতে সরকারের মৌখিক নিদের্শনার কথা সরকারি কর্মকর্তা ও যানবাহন মালিকরা স্বীকার করেছেন। পুলিশ বলছে চট্টগ্রাম থেকে লংমার্চে দেড় হাজারের মতো লোক অংশ নেবে। এতে উদ্বেগের কোন কারণ নেই। হেফাজতে ইসলামের নেতারা জানান, সরকার গাড়ি ভাড়া না দিতে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যানবাহন মালিকদের হুমকি দিচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়া গেলে লংমার্চে অংশগ্রহণ থেকে হাজার হাজার লোক বাদ পড়তে পারে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. নওশের আলী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘সমপ্রতি লালদীঘি ময়দানে সমাবেশে হাটহাজারী থেকে ১২টি গাড়ী নিয়ে মানুষ এসে সমাবেশে অংশ নিয়েছে। লংমার্চে হয়তো এক থেকে দেড় হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে। ঢাকায় লাখ লাখ মানুষ নিতে তাদের এতো টাকা কোথায়? এরা তো জামায়াত-শিবির নয়, নিজের টাকা খরচ করে লংমার্চে যাবে। এই নিয়ে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার কোন কারণ দেখছি না। নাশকতা ঠেকাতে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।’ অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের প্রচার সচিব মো. মুনির আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের চট্টগ্রাম থেকে ৩ লাখ লোক নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সরকার পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যানবাহন মালিকদের গাড়ি ভাড়া না দিতে হুমকি দিচ্ছে। ফলে যানবাহন নিয়ে সংকট সৃষ্টি হতে পারে। সাংগঠনিকভাবে নয়, অংশগ্রহণকারীও নিজ উদ্যোগে গাড়ি ভাড়া করছে। তিনি এই পর্যন্ত কতোটা গাড়ি ভাড়া হয়েছে তা কৌশলগত কারণে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। সরকার ও প্রশাসনের বাধার কারণে গাড়ি নিয়ে মালিকরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও ভাড়া নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল ইত্তেফাককে বলেন, ‘লংমার্চে গাড়ি ভাড়া না দিতে প্রশাসনের চাপ রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশের কথা আমরা যানবাহন মালিকদের বলে দিয়েছি। কেউ ভাড়া দিলে তা নিজ দায়িত্বে নেবেন। এতে আমাদের করার কিছু নেই।’ এছাড়া চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম আমাদের কাছে গাড়ি চায়নি। তবে ভাড়া না দিতে সকল যানবাহন মালিককে সতর্ক করে দিয়েছি।’ মালিক সমিতি জানায়, চট্টগ্রাম জেলা ও আন্তঃজেলা মিলে চট্টগ্রামে ২৭টি সংগঠনের অধীনে প্রায় ১৫ হাজার এসি, ননএসিসহ বাস-মিনিবাস রয়েছে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের টিকিট নিয়ে রেলপথেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, টিকিট প্রদানে কড়াকড়ি ও নিরাপত্তা নিয়ে সর্তক থাকতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকদিন আগে একটি চিঠি এসেছে। তাই রেলওয়ের স্টেশনগুলোতে লংমার্চের অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপারে নজর রাখতে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলা হয়েছে বলে ঐ কর্মকর্তা জানান। হেফাজতে ইসলামের প্রধান কার্যালয় হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকা চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উত্তরের আওতায় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) ফরিদ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘হেফাজতের লংমার্চের কার্যক্রম নিয়ে আমাদের সতর্ক নজরদারি রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। লংমার্চ বাধা দেয়ার কোন ইচ্ছা নেই। তবে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে।’ এদিকে লংমার্চ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। তার উপর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সরকার সমর্থন কয়েকটি সংগঠন হরতাল ডাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ঐদিন এসি ও ননএসি গাড়ীতে করে যাতায়াতকারীরা হরতাল ডাকায় বেকায়দায় পড়েছে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় যারা আগেভাগে অনেকে টিকেট সংগ্রহ করেছে তাদের যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।