১৪ বছরে একুশে টিভির নতুন ঘোষণা
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৬
আনলাকি থার্টিন পেরিয়ে ১৩ বছর শেষে একুশে টেলিভিশন আগামী ১৪ এপ্রিল পদার্পণ করতে যাচ্ছে চতুর্দশ বছরে। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে একুশে টেলিভিশন কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। একুশে টেলিভিশনের চলমান এবং আগামী কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম। ‘পরিবর্তনে অঙ্গীকারবদ্ধ’ এই চ্যানেলটি প্রতিদিনের সংবাদ এবং অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দর্শক শ্রোতাদের দিয়েছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নির্মল বিনোদন। প্রতিটি বিশেষ দিবসে দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিচ্ছে অসংখ্য ভালো অনুষ্ঠান, নাটক, টেলিফিল্ম এবং চলচ্চিত্র। এরই ধারাবাহিকতায় এবং দর্শকদের চাহিদা বিবেচনা করে একুশে টেলিভিশন আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে তার পর্দায় নিয়ে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। আগামী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম প্রহর থেকেই দর্শক পর্দায় একুশে টেলিভিশনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান তারা। একুশে টেলিভিশনের সংবাদসহ নিয়মিত অনুষ্ঠান গুলোতে আসছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এ ছাড়াও চলতি অনুষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং আরও নতুন নতুন বিনোদনমূল ও তথ্যভিত্তিক অনুষ্ঠান, নাটক, চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে। এই পরিবর্তনে দর্শক রুচিকেই প্রধান্য দেওয়া হয়েছে’। এ সময় সভায় একুশে টেলিভিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমরা ৪টি চ্যানেলের সমান গুরুত্ব বহন করি :আব্দুস সালাম
১৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে একুশে টিভির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আব্দুস সালাম বলেন, ‘মূলত আমার চ্যানেলে প্রয়োজন ৪টি। কারণ যত ব্যতিক্রমী কনটেন্ট আসরা আমাদের চ্যানেলে প্রচার করি, তাতে ৪টি চ্যানেল প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সমস্ত সোস্যাল কমিটমেন্ট, বিনোদন ও খবর সবকিছু একটি চ্যানেলেই দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া এ দেশের চ্যানেল বন্ধের অনেক রেকর্ড আছে। কিন্তু একটি চ্যানেল ৫ বছর অবরুদ্ধ থেকে আবারও আগের সুনাম নিয়ে চালু হওয়ার রেকর্ড একমাত্র আমাদেরই আছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নে ভেতর একটি প্রশ্ন ছিল, এ দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালার ফর্মেট দেখিয়েছে ইটিভি। কিন্তু কালস্রোতে ইটিভিকে অনুকরণ করে অনেক চ্যানেল এগিয়ে গেলেও ইটিভি কেন সনাতনী প্রথা ধরে রেখেছে। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা একারণেই নতুন বছরে পদার্পণ উপলক্ষে একেবারেই নতুনভাবে অনুষ্ঠান আঙ্গিক বদলিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের সবকটি চ্যানেল তাদের নিউজ ব্র্যান্ডিং করলেও আমরা করি না মোটা অংকের টাকার অফার পাওয়া স্বত্তেও। কারণ আমরা আমাদের নিজস্ব নীতিতে বিশ্বাস করি। এ ছাড়াও এদেশে যখন এক ঘণ্টার নাটক বিলুপ্তির পথে। তখন আমরা বিরতিহীন নাটক প্রথা শুরু করলাম। আমাদের কোনো নাটক আজ অবধি ডিভিডিতে বের হয়নি। কারণ আমরা আকাইভ ভ্যালুতে বিশ্বাস করি। এতকিছু প্রিন্সিপালের একটি থেকে সরে আসলেই আমি ব্যক্তিগত ভাবে বছরে কয়েক কোটি টাকা লাভবান হতে পারি অনায়াসেই। কিন্তু আমরা সেই পথে হাটিনি কোনদিন। কারণ একুশে টিভি শুধু বিনোদন শুধু খবরের না, একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে। এ কারণেই আমাদের সবাই অনুকরণ করে। আমরা গর্বিতভাবেই বলতে পারি আমরা অনুসরণীয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার্থেই ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।