বরিশালে দুই বছরে ২০ হাজার যক্ষ্মা রোগী চিহ্নিত
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৭
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বিগত দু’ বছরে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২০ হাজার যক্ষ্মা রোগী চিহ্নিত করেছে। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে দু’ বছরে মারা গেছে ৭শ’ রোগী। বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে গত ২৪ মার্চ বরিশাল প্রেসক্লাবে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ব্র্যাক আয়োজিত গোল টেবিল বৈঠকে চিকিত্সকরা এ তথ্য জানিয়ে বলেন এর আগের দু’ বছরে (২০১০ ও ২০০৯) যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল ২৫ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৮শ’ লোকের। গোল টেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও বক্ষ ব্যাধি নিরাময় কেন্দ্রের কনসালটেন্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান-যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে ব্র্যাক। বেসরকারি ঐ সংস্থার চিকিত্সা সেবায় গত দু’বছরে আক্রান্ত ২০ হাজার রোগীর ১৭ হাজারই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বাকীদের চিকিত্সা চলছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে ১৯৮২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এ বিভাগের যক্ষ্মা রোগীদের চিকিত্সার জন্য সরকারি ৪টি বক্ষব্যাধি হাসপাতালই ছিল ভরসা। চিকিত্সা সেবা বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে কুসংস্কারে ঘেরা এ রোগ নিয়ে প্রবাদ ছিল “যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা”।
২০০৪ সালে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ‘ যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার ভিত্তি নাই’ শ্লোগান নিয়ে সরকারের সহায়তায় ডাইরেক্টলি অবজারভ শট কোর্স (ডট্স) পদ্ধতিতে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু তাড়াতে মাঠে নামে। ব্র্যাকের কর্মকর্তারা জানান তাদের কার্যক্রমে পূর্বের আরো ৩ ধাপ উপরে উঠে এসে যক্ষ্মা নিরাময়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শামসুল হক জানান যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ব্র্যাকের যে কার্যক্রম চলছে তা গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় করে আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে হবে। সারাদেশের যক্ষ্মা রোগীদের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন,
বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর ৩ লাখেরও বেশি মানুষ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৫ হাজারেরও বেশি। তবে বরিশাল বিভাগে বছরে গড়ে মাত্র সাড়ে ৩ শত মানুষ মারা গেছে। এটি মন্দের ভাল। যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ ব্র্যাককে নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে এ আঞ্চলের কোটি মানুষের মধ্যে গড়ে প্রতি বছর মাত্র ১০ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিভাগের মধ্যে গত দু’ বছরে বরিশাল জেলায় যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয় ২ হাজার ৪৭২ জন । মারা গেছেন ১১৪ জন। ভোলা জেলায় আক্রান্ত হন ২ হাজার ১০৮ জন। মারা গেছেন ৬১ জন। বরগুনায় আক্রান্ত ৯৩০ জন। মারা গেছেন ৪৬ জন। পিরোজপুরে আক্রান্ত হয় ১ হাজার ১৫০ জন। মারা গেছে ৩৯ জন। ঝালকাঠীতে আক্রান্ত হয় ৭৮৩ জন। মারা গেছেন ৩৬ জন । পটুয়াখালীতে আক্রান্ত হয় ১ হাজার ৮৭১ জন আর মারা যায় ৮০ জন।
নাসিরনগরে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালন
নাসিরনগর সংবাদদাতা \ “যত দিন বাঁচবো যক্ষ্মাকে রুখবো” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগিতায় রবিবার উপজেলা সদরে এক শোভাযাত্রা বের হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু ছালেহ মো. মুসা খানের সভাপতিত্বে ব্র্যাক ম্যানেজার নাসির উদ্দিন মোল্লা পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল হক মাস্টার।