অতঃপর বাংলাদেশের জয়!

দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশি সুপার মডেলদের যেন আক্ষেপের দিন শেষ হলো। টানা প্রায় ১ যুগেরও বেশি সময় পর ছোট পর্দায় লাক্সের কোনো মডেল হলেন বাংলাদেশি তারকা। মূলত একটি পাক্ষিক ম্যাগাজিনের কাছ থেকে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে দেশের সবচেয়ে বড় রিয়েলিটি শো আয়োজন স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকেই কোনো লাক্স তারকাকে লাক্সের মডেল হিসেবে দেখা যায়নি। বরং উল্টো বাংলাদেশি লাক্স তারকারা শুধুই নামে মাত্র সেরার মুকুটটি পরেছেন। বিনিময়ে প্রতিবছর মিডিয়া তাদের নিজ দায়িত্বে কাভারেজ দিয়েছে মাত্র। অথচ দেশে বিলবোর্ড, টিভিসি, পেপার অ্যাডসহ সবকিছুতেই দখলে ছিল কখনও ঐশ্বরিয়া, শাহরুখ বা ক্যাটরিনা বা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার। বাংলাদেশি লাক্স সুন্দরীরা ছিল যেন নামে মাত্র প্রতিনিধি। এ নিয়ে ইত্তেফাক বিনোদন প্রতিদিনেও দীর্ঘদিন ধরেই লেখালেখি হয়েছে। বেশ কয়েকটি সেমিনারেও বিনোদন সাংবাদিকেরা সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন লাক্স সুন্দরী নির্বাচিত হওয়ার পরও তার ইমেজ প্রমোশন নেই কেন। কেন সেই প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনে থাকবে না বাংলাদেশি তারকারা। মূলত এইসব কারণেই লাক্স তারকারা ছিলেন অনেকাংশেই দূর্ভাগা। আর নব্বই দশকের তারকারা ছিলেন অনেক সৌভাগ্যৗবান। কারণ প্রথমত তখন কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেলের ভিড় ছিল না, ছিল না এত এত কর্পোরেট ব্র্যান্ডিং নামক শব্দের যথেচ্ছাচার। ফলে একজন সুপারমডেল খুব দ্রুতই তার ইমেজকে দেশের শীর্ষ তারকার আসনে নিয়ে যেতে পারতেন লাক্স সুন্দরীর মুকুটের বিনিময়ে। কিন্তু এরপর দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে এই রিয়েলিটি শো’র কোনো তারকা সুযোগ না পাওয়ায় গেল কয়েক বছরের লাক্স তারকারা ব্র্যান্ডিংয়ের চেয়ে নিজেদের গুণে টিকে ছিলেন কঠিন পরীক্ষায় বিশাল স্যাটেলাইট সমুদ্রে। সেদিক দিয়ে আকাশ সমান ভাগ্যই যেন মেহজাবিনের। কারণ দীর্ঘ কয়েকবছরের বলয় ভাঙছে তার মাধ্যমে। লাক্স মডেল হিসেবে এবারে বাংলাদেশি তারকার নাম আসছে তার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে মম, শানু বা তার পূর্বসূরীরা কিছুটা আক্ষেপ করতেই পারেন। তবুও এটা অনেক বড় সুসংবাদ যে, বাংলাদেশি মডেল হিসেবে আবারও লাক্স তারকার ব্র্যান্ডিং হতে যাচ্ছে। ছোট পর্দার নান্দনিক বিজ্ঞাপনে শোভা পাচ্ছেন এখন মেহজাবিন। টানা তিনমাস ধরেই নাকি এই পরিকল্পনা চলেছে। ভারতীয় নির্মাতা বিশাল মঙ্গেশকার নির্মাণ করেছেন মেহজাবিনকে নিয়ে এই নান্দনিক বিজ্ঞাপনটি। এ ছাড়াও বাংলাদেশি বিলবোর্ডেও ভিনদেশি মডেল সরিয়ে এবারে উঠবে বাংলাদেশি তারকা। মুম্বাই স্টুডিওতে তৈরি হওয়া এই লাক্সের বিজ্ঞাপন যেন শুধু মেহজাবিনের প্রাপ্তি নয়। গোটা বাংলাদেশি স্বপ্নভুক মডেলদের জন্য অনেক বড় একটি বিজয়। পেপার অ্যাড, বিলবোর্ড ও টিভিসি সবকিছুতেই থাকবে এবার মেহজাবিন। দীর্ঘ ২ বছরের এই কন্ট্রাক্টে আরও কিছু নিত্যনতুন পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মেহজাবিন। নতুন করে রেকর্ড গড়ার খুশিতে তাই আত্মহারা হতেই পারেন মেহজাবিন। দেশীয় তারকার ইমেজ ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য এর চেয়ে আর বড় প্রাপ্তিযোগ কি হতে পারে। সত্যিকার অর্থেই আবারও লাক্স সুন্দরীর মুকুটটা যেন অভাবনীয় সুখস্বপ্নের প্রতীকে পরিণত হলো আজ। ধন্যবাদ তাই ইউনিলিভারকে নতুন এই সিদ্ধান্তের জন্য। মেহজাবিন বিনোদন প্রতিদিনকে বলেন, ‘অনেক অ্যাপ্রিশিয়েশন পাচ্ছি এই বিজ্ঞাপনটি করে। আমি তো ছেলেবেলা থেকেই দেশের বাইরে ছিলাম। দীর্ঘদিন পর দেশে এসে স্রেফ পাগলামী থেকেই লাক্সে ছবি দিয়েছিলাম। সেই থেকে সেরা হবো ভাবিনি। এরপর মাস তিনেক আগে যখন তারা আমার সাথে এই বিজ্ঞাপনটি করবে বলে জানাল তখন সত্যিই খুব গর্বিত লাগছিল নিজেকে। তখনই জানলাম সর্বশেষ অপি আপু নাকি কাজ করেছিলেন কোনো লাক্সের বিজ্ঞাপনে। তাই আমি বলব এটা শুধু আমার একার বিজয় নয়, গোটা বাংলাদেশি শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির জয় হয়েছে। সবশেষে দেশীয় শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির সমৃদ্ধির এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে বলা যায় বর্তমান সময়ের টপ মডেল এখন মেহজাবিন। শুভেচ্ছা মেহজাবিনকে, বাংলাদেশের মডেলিং জগতের এই নতুন বিজয়ের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য।