ওষুধ সেবনে সতর্ক থাকতে হবে
ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম
আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। কোনো সঙ্গত কারণ ছাড়া রোজা পালন না করার কোনো ইচ্ছা মুমিন মুসলমানগণের থাকে না। কিন্তু বহু মুসলিম নর-নারী আছেন যারা অসুস্থ অথবা চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী নানাবিধ ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। এসব নিয়ে আমাদের হেলথ টিপসে রমজান জুড়ে থাকবে নানা পরামর্শ। আজ শুধু রমজানে সুস্থ থেকে কিভাবে রোজা পালন করবেন তা নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হূদরোগ, কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ওষুধ খানিকটা অ্যাডজাস্ট বা সমন্বয় করতে হতে পারে। ইফতার ও সেহরির সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। তবে রোজাদারগণের খাবার হতে হবে পুষ্টিকর।
যে সব খাবার দীর্ঘ সময় লাগে হজম হতে যেমন: আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি। পাশাপাশি সেহরির সময় থাকতে হবে মাছ-মাংসসহ খানিকটা প্রোটিন বা আমিষ। মনে রাখতে হবে যাদের সুগার সমস্যা আছে অথবা ডায়াবেটিসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা ব্লাড সুগার বর্ডার লাইন তাদের অবশ্যই চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত।
বিশেষ করে নানা ধরনের প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে অনেকে ইফতারিতে অধিক চিনিযুক্ত শরবত ও ভিটামিন সি জাতীয় পানীয় পান করে থাকেন। যাদের সুগার সমস্যা আছে তাদের রমজানে ইফতারিতে সুগার পরিহার করতে হবে। তবে যাদের সুগার সমস্যা নেই তারা যদি বাজারে পাওয়া শরবত দিয়ে ইফতারি করতে চান তবে অবশ্যই দেখে নেবেন উত্পাদক কোম্পানিটি ভালো মানের কি না। বিশেষ করে রমজান আসলে বিভিন্ন নিম্নমানের কোম্পানি নানা চটকদার নাম দিয়ে শরবত তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে। মাত্র ২/১টি কোম্পানি ছাড়া এসব শরবতে ফলের রসের কোনো নাম গন্ধও থাকে না। চিনি ও নানা ধরনের ক্ষতিকর রং মিশিয়ে তৈরি করা হয় এসব শরবত। এতে পেটের পীড়া সহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতারিতে কি ধরনের শরবত পান করবেন তা অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। তবে ঘরে বসেই লেবুর রসের শরবতও তৈরি করতে পারেন। এছাড়া ইফতারিতে বাইরের খাবার পরিহার করার চেষ্টা করা ভালো। ইফতারিতে অধিক ভাজা পোড়া খাবার আহার করা উচিত নয়। পাশাপাশি যারা হালকা ইফতারির পর রাতের খাবার বা ডিনার করতে চান তাদের তারাবির পর ডিনার করা উচিত। কারণ অধিক আহারের পর তারাবির নামাজ আদায় করা অনেকের ক্ষেত্রে কষ্টকর। তবে যারা ইফতার ও ডিনার এক সঙ্গে সেরে ফেলেন তাদের উচিত হালকা ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজ আদায় করা এবং নামাজ শেষে ডিনার করা। তাহলে ডিনার ও তারাবির মাঝে খানিকটা বিরতি পাওয়া যাবে। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও হিতকর। এছাড়া যারা সকালে ও রাতে অথবা দিনে তিনবেলা ওষুধ সেবন করেন তাদেরও ওষুধ সেবনের সময়সূচি চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তন করে রোজা রাখা সম্ভব।
লেখক: চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ