রংপুরে শিবিরের ‘অপারেশন স্কোয়াডের’ কমান্ডারসহ ২২ জন গ্রেফতার

জেলায় গত বুধবার রাতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ‘অপারেশন স্কোয়াডের’ কমান্ডার মহানগর শিবিরের দপ্তর সম্পাদক হারুন অর রশীদ এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজীবুর রহমান পলাশসহ ২২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রংপুরে এ স্কোয়াডের সদস্য সংখ্যা দুইশ জন। দলটির কেন্দ্রীয় নির্দেশে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে বলেও গ্রেফতার হওয়া শিবির কর্মীরা জানিয়েছেন। কোতয়ালী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপার এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান, রংপুর মেডিক্যাল পাকারমাথার কাদেরী মঞ্জিলের মিত্রশিলা ছাত্রাবাসে গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে স্কোয়াডের কমান্ডার হারুন অর রশীদ এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজীবুর রহমান পলাশসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় শিবির অধ্যুষিত ছাত্রাবাসটির একটি কক্ষ থেকে অন্যান্য অনেক কিছুর সঙ্গে উদ্ধার করা মাসিক চাঁদা আদায়ের বইয়ের মাধ্যমে গত ২ মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়েছে বলে জানা যায়। পরে গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর শিবির অধ্যুষিত বিভিন্ন ছাত্রাবাস (মেস) ও বাড়ি থেকে স্কোয়াডের আরও ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রশিবিরের মহানগর উত্তর কমিটির সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান, রংপুর উপ-শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আমজাদ হোসেন, শিবির কর্মী মোজাহিদুল ইসলাম, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শিমুল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি সামছুল আরেফীন প্রমুখ। প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেফতার হওয়া স্কোয়াডের কমান্ডার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, হরতালের আগে এবং হরতাল চলাকালে নাশকতা সৃষ্টি, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের কাজটি ‘অপারেশন স্কোয়াড’র সদস্যরাই করে থাকে। রংপুরে প্রতিটি হরতালে এই স্কোয়াডের সদস্যরাই নাশকতা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। শিবিরের সাহসী নেতাকর্মীদের স্কোয়াডের সদস্য করা হয় বলে তিনি জানান।