জনগণের মাঝে চাপা ক্ষোভ
নানা সমস্যায় জর্জরিত নাঙ্গলকোট উপজেলা
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১০
কুমিল্লার অবহেলিত একটি জনপদের নাম নাঙ্গলকোট উপজেলা। চৌদ্দগ্রামের ৬টি এবং লাকসামের অবহেলিত ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯৮৩ সালে গঠিত হয় নাঙ্গলকোট উপজেলা। ভবন সংকটে বিভিন্ন আবাসিক ভবনে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিগত সরকারগুলোর সময়ে নাঙ্গলকোটের প্রধান-প্রধান কয়েকটি সড়ক পাকাকরণ, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজের ভবন, পৌর ভবন ও অডিটরিয়াম নির্মাণ, বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুতায়নসহ উল্লেখযোগ্য কিছু উন্নয়ন হয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে এলাকাবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত । ফলে উপজেলাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। নাঙ্গলকোট উপজেলার অধিকাংশ সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজ-কালভার্টের অবস্থাও নড়বড়ে। উপজেলার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগের প্রধান সড়ক নাঙ্গলকোট-লাকসাম সড়কটি সরু হওয়ায় উপজেলাবাসীকে আধা ঘন্টার পথ চলতে দেড় ঘন্টা লাগে। উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতির অভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
গোহারুয়ায় নির্মিত ২০ শয্যা হাসপাতাল ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রয়েছে ডাক্তার সংকট। উপজেলা প্রশাসনে নেই পর্যাপ্ত কর্মকর্তা- কর্মচারী। জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের ৯টি বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৯৩টি কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। এক যুগ ধরে নেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে এখনো বিদ্যুত্ পৌঁছেনি। সরকারিকরণ করা হয়নি একটি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসা। নাঙ্গলকোট রেল স্টেশনে দু’একটি আন্তঃনগর ট্রেন স্টপিজ থাকলেও অধিকাংশ ট্রেন এখানে না থামায় উপজেলাবাসীকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেচ সুবিধার অভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানায়, বর্তমানে এখানে টি আর, কাবিখা এবং কাবিটা বিতরণের মধ্যে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে।