কুমারখালির পাখা পল্ল¬ী

প্রচণ্ড গরমে তালের পাখা হাতে কয়েকটি পঙক্তি অনেকের মুখে শোনা যায়, সেটি হলো ‘তালের পাখা প্রাণের সখা, শীতকালে দেয় না দেখা, গরমকালে পরম পাখা’। আর সেই হাত পাখা নিজ বাড়িতে তৈরি করে জীবিকানির্বাহ করে থাকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার সদকী ইউনিয়নের মট মালিয়াট গ্রামের অধিকাংশ পরিবার। তাই গ্রামটির নাম কখনো পাখা গ্রাম আবার কখনো পাখা পল্ল¬ী নামে অভিহিত। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিবারের ছোট-বড় প্রায় সকল সদস্য পাখা তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। দেশজুড়ে বিদ্যুতের নিয়মিত লোডশেডিং ও প্রচণ্ড গরমের কারণে গতবারের তুলনায় এবার পাখার চাহিদা বেড়েছে অনেক বেশি। পাখা তৈরির উপকরণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এবার পাখার দাম বেড়ে গেছে। সরেজমিনে মট মালিয়াট গ্রামে গেলে দেখা যায় গ্রাম জুড়ে দেড় শতাধিক পরিবারের মধ্যে প্রায় দেড়শ’ পরিবারের প্রায় ৬শ’ নারী-পুরুষ কেউ পাখা রঙ করছে, কেউবা হাতল অথবা তালপাতার দু’পাশে বাঁশের খিলে সুতা বাঁধায় ব্যস্ত। পাখা তৈরি শ্রমিক আব্দুল হান্নান, রেবেকা খাতুন, আকুব্বর, হামিদা খাতুন, সানাউল্ল¬াহ মালিথা, ফিরোজা খাতুন, আবু তারেক ইত্তেফাককে জানান, তালগাছের ১শ’ পিস পাতা ৮০০ টাকা দরে কিনলে ৬শ’ পিস পাখা হয়। পাখার হাতল তৈরির জন্য ২৩০ টাকা দরে এক পিস বাঁশ কিনলে ১শ’ থেকে দেড়শ’ পিস হাতল হয়। হাতলের সঙ্গে তার দ্বার, বাঁশের খিলের সঙ্গে সুতা দিয়ে বাঁধন এবং রঙ খরচ হয় প্রতি ১শ’ পিস পাখার জন্য ৮০ থেকে ৯০ টাকা ব্যয় হয়। অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই শ্রমিক আবার নিজেরাই মালিক। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার পাখা তৈরি হয়ে থাকে। সানাউল্ল¬াহ মালিথা ও তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন জানান, পরিবারের চারজন সদস্য সারাদিনে দেড়শ’ থেকে ২শ’ পিস পাখা তৈরি করেন। তারা বলেন, প্রতি ১শ’ পিস পাখা তৈরি করতে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা খরচ হয়। বর্তমানে পাইকারি হিসাবে প্রতি ১শ’ পিছ বিক্রি হয়ে থাকে সাড়ে ৬শ’ থেকে পৌনে ৭শ’ টাকা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এ গ্রামে আসে পাখা ক্রয় করতে।