উখিয়ায় ভূমি জালিয়াতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
উখিয়া(কক্সবাজার)সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৫
কক্সবাজারের উখিয়ার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাকে ঘিরে সংঘবদ্ধ একটি ভূমি জালিয়াত চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সামপ্রতিক সময়ে এলাকায় জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সংঘবদ্ধ ভূমি জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া খতিয়ান ও দলিল সৃজন, নামজারি জমাভাগ, খতিয়ান সৃজনসহ নানা কৌশলে অসহায় মানুষের জমি কেড়ে নিচ্ছে। জালিয়াত চক্রের এসব অপকর্ম বন্ধে প্রশাসনিকভাবে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এরা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যার কারণে সমুদ্র উপকূলের কয়েক হাজার মানুষ জমি হারিয়ে পথে বসেছে। এছাড়া অসংখ্য মানুষ রয়েছে জমি হারানোর আতংকে। অভিযোগে প্রকাশ, মোহাম্মদ শফির বিল গ্রামের মোজাফ্ফর আহম্মদের ছেলে আবু তাহের ও মনজুর আলম দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া খতিয়ান ও নামজারি জমাভাগ খতিয়ান সৃজন করে সাধারণ লোকজনের জমি কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে। একসময়ে সাগরে পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করত এ দুই সহোদর। জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন লোকজনের জমি কেড়ে নিয়ে তারা এখন কোটিপতি। তাদের কারণে এলাকার অনেক মানুষ জমি হারিয়ে পথে বসেছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা হলেও ভূমি জালিয়াত চক্রের সদস্যরা থেকে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়াও আবু তাহের ও মনজুর আলম জনৈক কবির আহম্মদের স্ত্রী মাহমুদা খাতুনের ১২ শতক জমি প্রতারণামূলকভাবে নিয়ে নেয় এবং ওই মহিলার দেড় কড়া জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার কথা বলে ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আবু তাহের দীর্ঘদিন কারাভোগ করে। অভিযোগ উঠেছে, আবু তাহের ও মনজুর আলম তাদের দাদী বিবুলা খাতুনের ১ একর ২০ শতক ও নানী কুলছুমা খাতুনের ৬০ শতক জমি কৌশলে কেড়ে নেয়। জমি হারিয়ে এখন তারা অভাবের তাড়নায় ভিক্ষা করে। ছোয়াংখালী গ্রামের কবির আহাম্মদ জানান, উপকূলের একশ্রেণীর ভূমি জালিয়াত চক্রের খপ্পরে পড়ে এলাকার অসংখ্য মানুষ বসতভিটা, সহায়-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনিসহ এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা এসব ভূমি জালিয়াত চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।