আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ১০

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে আওয়ামী লীগ ও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা দাবি করেছে, পুলিশের গুলিতে শহীদুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশিদ জানান, হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের গুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচি প্রতিহত করার দাবিতে গতকাল বিকাল ৪টার দিকে কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার সামনে চৌরাস্তা মোড়ে কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী সোলায়মান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. মোশাররফ হোসেন ও সহ-সভাপতি হাজী শাহ আলী বক্তব্য দেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জামিয়া নূরিয়া ইসলামী মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি সমাবেশ স্থলের দিকে পৌঁছলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় ৫ মিনিট ধরে পুলিশ উভয়পক্ষ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এসময় পুলিশের রাবার বুলেট বিদ্ধ হন শহীদুল ইসলাম (৩৫), কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন (৩২), ফজলু বাবুর্চি (৫০), ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির খান (৩৫) ও নূর ইসলাম (২২) সহ অন্তত ১০ জন। গুলিবিদ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা শহীদুল ইসলাম (৩৫) কে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাম পাঁজরে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগ কর্মী। কামরাঙ্গীরচরের খলিফাঘাটে তার বাসা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে আটক করার পর আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয় দেন। এরপরও পুলিশ তার শরীরে শর্টগান ঠেকিয়ে গুলি করে। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ আওয়ামী কর্মীদের দেখতে যান আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তার কাছে গুলিবিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীরা পুলিশের এমন নির্দয় আচরণের বিচার চান। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ ব্যাপারে আইন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করেননি। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছেন, দুই পক্ষকে শান্ত করতে পুলিশকে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়তে হয়েছে। পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশিদ বলেছেন, পুলিশের গুলিতে নয়, হেফাজতে ইসলাম কর্মীরা আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর গুলি করেছে।