ঢাকার সাত পয়েন্টে গণজাগরণ মঞ্চের অবরোধ, আজ সমাবেশ
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১০
হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ‘প্রতিরোধে’ রাজধানীর রেল সড়ক ও নদী পথ অবরোধ করে রেখেছে গণজাগরণ মঞ্চ। সাম্প্রদায়িক শক্তির নাশকতা প্রতিহত করতে ঢাকা পাহারায় নেমেছেন মঞ্চের কর্মীরা। একইসাথে ২৩ সংগঠনের ডাকা হরতালে সমর্থন জানিয়েও তারা অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। হেফাজত ইসলামের লংমার্চের প্রতিবাদ জানিয়ে শাহবাগসহ রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে গতকাল শুক্রবার সারারাত অবরোধ করে রাখে গণজাগরণ মঞ্চ। আজ শনিবার বিকাল পর্যন্ত এ অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে মঞ্চ।
গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাতটি পয়েন্টে- শাহবাগে, সদরঘাটে, কমলাপুরে, যাত্রাবাড়িতে, উত্তরায়, আশুলিয়ায় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে গণজাগরণ মঞ্চ।
গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে গণজাগরণ মঞ্চ। এতে প্রেসক্লাব-মত্স্যভবন-শাহবাগ-কাটাবন-রূপসী বাংলা সন্নিহিত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের শুরুতেই অস্থায়ী মঞ্চ তৈরির ঘোষণা দিয়ে আজ বিকাল পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানান মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। আজ বিকাল চারটার সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি তিনি আহবান জানান। শাহবাগের অবরোধ সমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে জামায়াত সহিংসতা করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগআনা হয়। স্লোগান উঠে- ‘হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতের আরেক নাম’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই; রাজাকারের ফাঁসি চাই’।
আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর
সড়কে অবরোধ
পুলিশ জানায়, হেফাজতের লংমার্চ প্রতিরোধে সন্ধ্যায় অবরোধ কর্মসূচির শুরুতেই আশুলিয়া জিরাবো মোড়ের পিকক প্লাস্টিক কারখানার সামনে রাস্তায় ড্রাম ফেলে অবরোধ তৈরি করেন এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেন আন্দোলনরতরা। এ সময় ২৩ দলের ডাকা হরতালের সমর্থক এবং গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থকরা সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে ঐ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুর সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আশুলিয়া বেড়িবাঁধ থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত পুলিশি তল্লাশি ও টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। হেফাজতে ইসলামের ডাকা লংমার্চ ঠেকাতে জাগরণ মঞ্চের ঘোষিত রেল, নৌ ও সড়ক পথ অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে এ কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি ও জামায়াত শিবিরসহ সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরুদ্ধ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সন্ধ্যায় সাড়ে ছয়টার দিকে অবরোধ শুরু করেন গণজাগরণ মঞ্চের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেটসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে তারা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে ঐ সড়কে ও সন্নিহিত সড়কে যানজট তৈরি হয়। এম্বুলেন্সসহ জরুরি কাজে ব্যবহূত গাড়ি অবরোধের বাইরে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের কর্মীরা।
এর আগে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিলকারীরা প্রান্তিক গেটে এসে মহাসড়ক অবরোধ করে সেখানে অবস্থান নেন। আজ বিকাল পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে আন্দোলনরতরা জানান।
সদরঘাট অবরুদ্ধ
সদরঘাটে সন্ধ্যা ছয়টা থেকেই অবস্থান নেন গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। সদরঘাট টার্মিনালের বাইরে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে হেফাজতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন আন্দোলনরতরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সদরঘাটে লঞ্চ চলাচলও প্রায় বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে সদরঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ। অবরোধ শুরু হওয়ার পর ঐ এলাকায় যানজট তৈরি হয়। তবে রাতে ধীরে ধীরে সড়কটি যানশূন্য হয়ে পড়ে।
কমলাপুরে পাহারা
রেলপথে সড়ক অবরোধের অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাতভর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরতরা। সরকার ট্রেন চলাচল বন্ধ না করায় সন্ধ্যায় ক্ষোভ জানান মঞ্চের কর্মীরা। সেখানে আলোর মিছিল করেন স্থানীয় সংস্কৃতি-কর্মীরা।
যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তায়ও গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা অবরোধ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু। তিনি বলেন, জঙ্গি গোষ্ঠীর রাজধানীতে নাশকতা প্রতিহত করতে আমরা সারারাত জেগে থাকব।
গত বৃহস্পতিবার হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ প্রতিহত করার ঘোষণা দেয় গণজাগরণ মঞ্চ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সড়ক অবরোধ শুরু হয়। আজ বিকাল চারটা পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে। এরপর বিকাল চারটার পর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিসহ ছয়দফা দাবিতে চলমান গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। এ মঞ্চের কর্মী ব্লগারদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে হেফাজতে ইসলাম। আজ শনিবার ঢাকা অভিমুখে তাদের লংমার্চ করার কথা রয়েছে।