বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজে আগুন

হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে গতকাল শুক্রবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে আগুন কয়েকশ’ কোটির টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টার পর আগুনে নেভাতে সক্ষম হয়। এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জানা যায়নি আগুনের কারণ। তবে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোন রহস্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি সিভিল এভিয়েশন ও অপরটি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে। দুই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিমানবন্দরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিদেশ থেকে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা পার্সেল ও ডকুমেন্ট কার্গো ভিলেজের এ গুদামে রাখা হয়। এ আমদানি শাখায় ৪৮টি কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল আসে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাপড়, সূতা, চিকিত্সা সরঞ্জাম, ওষুধ তৈরির কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজের এই একতলা গুদামে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় দোতলা নির্মাণের কাজে এক পাশে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেখান থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে হঠাত্ বিমানবন্দর ৮ নম্বর গেট সংলগ্ন গোডাউনের উত্তর পাশের কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল রাখার স্থান থেকে প্রথম ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো শুরু করে। তবে সংবাদ কর্মীদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ, র্যাব ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে। ফায়ার সার্ভিস দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ঐ সময় সরিয়ে নেয়া হয়েছিল রানওয়েতে রাখা অপেক্ষমাণ কয়েকটি উড়োজাহাজ। আগুন লাগার পর গোডাউনের পাশের আনসার ক্যাম্প থেকে মালামাল বাইরে সরিয়ে নেয়া হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, গুদামে আগুনের ঘটনায় সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। শাহজালাল (র:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার আনিসুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আগুনের কারণে বিমানবন্দরে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট ওঠানামার ক্ষেত্রে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। তদন্ত কমিটি ঃ সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে পরিচালক (এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস) আজাদ জহিরুল ইসলামকে। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছেন সকহারী পরিচালক (ফায়ার) এসএম খালেদ, কাষ্টমসের সহকারী কমিশনার কামরুল হাসান খান, বিমানের ম্যানেজার (ইমপোর্ট কার্গো) মনজুরুল হক ও বিমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ইদ্রিস আলী। অপরদিকে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতরের উপ-পরিচালক অরূপ চন্দ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে । দুই তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।