ভারতে লোকসভা নির্বাচনে পঞ্চম ধাপের ভোট সম্পন্ন হয়েছে গতকাল। এ সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণ, ইভিএম ভাঙচুর এবং জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েক জায়গায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ভোটের পাশাপাশি ছিল রাজনৈতিক দলের নেতাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। গতকাল সাত রাজ্যের ৫১টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। সারাদেশে ভোটের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৬ ভাগ। এদিকে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেছেন, তার দল এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। তারা ৫৪৩ আসনের মধ্যে ২৭১ টি পেলেই খুশি।
বুথে গ্রেনেড বিস্ফোরণ
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পুলওয়ামার রোহমু এলাকার একটি বুথে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ইভিএম ভাঙচুর
বিহারের ছাপড়ায় ১৩১ নম্বর বুথে দুর্বৃত্তরা ঢুকে ইভিএম ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রণজিত্ পাসোয়ান নামে একজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর নতুন ইভিএম মেশিনে ভোট নেওয়া হয়।
বুথ দখলের অভিযোগ
বিজেপি প্রার্থী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি আমেথিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, একটি ভিডিওর দৃশ্যানুযায়ী এক বৃদ্ধাকে জোর করে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ায় বাধ্য করা হচ্ছে। পরে কমিশনের কাছে বুথ দখলের অভিযোগ জানান স্মৃতি।
তৃণমূল প্রার্থীকে মারধর
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর হিংলিতে বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। হাওড়ায় তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন ব্যানার্জিকে মারধর করা হয়েছে বলে আধাসামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ভীতি প্রদর্শনের। প্রতিবাদে আমডাঙায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ হয়। হুগলির এক বুথে ইভিএম ভাঙচুরে বিজেপি প্রার্থী লকেটের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
অনুষ্ঠিতব্য ষষ্ঠ ও সপ্তম দফার জন্য পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে দুইবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ফোন দিলেও অহংকারের কারণে আমার সঙ্গে কথা বলেননি। পরেও ফোন করেননি। এমনকি রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইলেও মমতা আপত্তি তোলেন।ঝাড়খন্ডের জনসভায় মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্চ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কংগ্রেস পারলে রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা বোফর্স কেলেংকারি মোকাবেলা করুক। এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের এক জনসভায় মমতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফোন করার সময় কলকাতায় নয়, খড়গপুরে ছিলাম। মমতার অভিযোগ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এমনকি বৈঠকের কথা আগে জানানোও হয়নি। মোদিকে আর প্রধানমন্ত্রী মানেন না উল্লেখ করে মমতা বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলবো।