হেফাজতের লংমার্চে ১৮ দলের নৈতিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত

হেফাজতে ইসলামের আজকের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ এবং এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে ২৫টি সংগঠনের চলমান হরতাল ও গণজাগরণ মঞ্চের অবরোধকে ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতি সতর্ক পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোট। বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে জরুরি বৈঠক করেছেন ১৮ দলের মহাসচিবরা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানা গেছে, বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের আজকের লংমার্চের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচি সফল করতে ১৮ দলের পক্ষ থেকে নৈতিক সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে, গতকাল রাজধানীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার একদিকে হেফাজতে ইসলামকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে, অন্যদিকে একশ্রেণীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে হরতালের প্ররোচনা দিয়ে দেশে জরুরি আইন জারির পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, দেশে এমননিতেই রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এরমধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে সরকার পরিস্থিতি আরো অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশে তারা বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে দলের যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানসহ গত ১১ মার্চ নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে ড. মোশাররফ বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সংকটজনক। সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি আড়াল করতে নানা কলাকৌশল করে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টা করছে। গত চার বছরে তারা মানুষের কোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি। কেবল নিজেরা লুটপাট করেছে। হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, তৌহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের সর্বাত্মক আন্দোলনে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। সরকারকে বলব, ক্ষমতায় থাকার জন্য গোয়ার্তুমি করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না। অন্যদিকে, গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রতিবাদ ও আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সারা বাংলাদেশ একটি বৃহত্তর কারাগারে পরিণত হয়েছে। তবে দেশের যে পরিস্থিতি, তাতে মনে হয় বিরোধী দলের জয় সন্নিকটে।