রাজশাহীতে জামায়াত নেতা ও ছাত্রশিবিরের ‘রগকাটা মামুন’ গ্রেফতার

রাজশাহীস্থ ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং গুলিবিদ্ধ শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর ডা. জাহাঙ্গীর হোসেনকে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে। শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে পুলিশ ও র্যাব মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে নামে। বিকালে পুলিশ ও র্যাবের অভিযান চলছিল। দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম মনির-উজ জামান ও র্যাব-৫, রাজশাহীর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফের নেতৃত্বে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে মহানগরীর নওদাপাড়াস্থ ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালায়। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন র্যাব ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে পড়েন। র্যাব ও পুলিশ সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে হাসপাতালে কক্ষের তালা ভেঙ্গে শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। মামুন গত বুধবার দুপুরে হরতাল চলাকালে মহানগরীর বিনোদপুর বাজারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও নাশকতা পরিচালনার সময় গুলিতে আহত হয়ে এই হাসপাতালে গোপনে চিকিত্সা নিচ্ছিলেন বলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন জানান। তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষের ব্যালকনি থেকে বিপুল পরিমাণ ভাঙ্গা ইটের টুকরা পুলিশ ও র্যাব অপসারণ করেছে। যা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে র্যাব ও পুলিশের ধারণা। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মনির-উজ জামান বলেন, ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পুলিশের মোস্ট ওয়ানটেড শীর্ষ ক্রিমিনাল। তার নির্দেশ ও পরিকল্পনায় জামায়াত-শিবির রাজশাহীতে বড় বড় নাশকতা পরিচালনা করছিল। তাকে বোমা মেরে পুলিশ কর্মকর্তা মকবুলের দুই হাতের কব্জি উড়িয়ে দেয়া এবং জাহাঙ্গীর আলমের উপর বর্বর হামলার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। শিবিবকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার বলেন, তিনি রাজশাহীর সর্বত্র ‘রগকাটা মামুন’ ওরফে ‘কসাই মামুন’ হিসাবে পরিচিত। জামায়াত কর্মী গ্রেফতার রাজশাহীতে আরো এক জামায়াত কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, নাম শামসুল ইসলাম। তিনি নগরীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গার্ড। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও শিবিরকর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতারের সময় শামসুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।