বিভিন্নস্থানে অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৫১
দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিবছর খরা মওসুমে অগ্নিকাণ্ডে জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। এবছরও খরা মওসুমের শুরুতেই বিভিন্নস্থানে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাঠিয়েছে ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
মাগুরা
মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে শুক্রবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি ঘর মালামালসহ ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা। মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে আবদুল হাইয়ের বাড়ির রান্নাঘর থেকে প্রথমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে ছলেমান, মাসুদ, মনিরুল, ফিরোজ হোসেন, খবির, সবুর, উজ্জল ও হিরন আলির ১০টি ঘর মালামালসহ ভস্মীভূত হয়। খবর পেয়ে মাগুরা থেকে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন আয়ত্ত্বে আনে।
ঠাকুরগাঁও
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক হাজার বাড়ি-ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩ কোটির টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দেড়ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানায়, রান্নাঘর থেকে আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার প্রায় এক হাজার বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনার পর ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ
শুক্রবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নয়ানন্দ গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ৭টি ঘরসহ প্রায় ২২০ মণ আলু পুড়ে গেছে। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় মোসলেম বেপারীর গোয়ালঘরে মশা তাড়াবার জন্য আগুন দিয়ে ধোঁয়া করে। এসময় আগুন চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে গেলে ৭টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এদিকে ঘরের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখা প্রায় ২২০ মণ আলু আগুনে পুড়ে যায়। এই আগুনে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাবনা
শনিবার পৃথক দু’টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দশটি পরিবারের ১৪টি ঘর, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু ভস্মীভূত হয়েছে। এতে অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, সকাল দশটার দিকে সদর উপজেলার রানীগ্রামে হোসেন আলীর বাড়ি রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পার্শ্ববর্তী আরও সাতটি পরিবারের ৯টি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড়ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও সব পুড়ে যায়। অপরদিকে ভোর পাঁচটার দিকে একই উপজেলার সিঙ্গা গাংখোলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে জহুরুল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে জহুরুল ও পাশের মঞ্জুরুল ইসলামের চারটি ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পুড়ে মারা যায় দু’টি গাভী।
গাজীপুর
গাজীপুর সদর উপজেলার কোনবাড়ী জেলখানা রোড এলাকায় গতকাল শনিবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডে ৬টি ঝুটের গুদাম পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে গাজীপুর ও কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে মিজানুর রহমান, সজল, ইয়াছিন মোল্লা, ওবায়দুল হক, হেলালউদ্দিন ও মানিক মিয়ার ঝুটের গুদাম পুড়ে যায়। প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামে শুক্রবার দুপুরে এক অগ্নিকাণ্ডে ৮টি পরিবারের বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মৃগমারীর কিতাবুদ্দীনের বাড়ির রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন পার্শ্ববর্তী আরো ৮টি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জীবননগর ও চুয়াডাঙ্গা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি গাড়ি এসে একঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে কিতাবুদ্দীন, আনছারউদ্দীন, শাহাবুদ্দিন, আলম হোসেন, ইসানুল হক ও আব্দুল রশিদের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)
দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া ভাঙ্গাপাড়া গ্রামে আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ৪০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ২টার দিকে পাকুড়িয়া ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের ছান্নান আলীর বাড়ির রান্নাঘরে আগুন লেগে যায়। আগুন দ্রুত আশেপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ঐ গ্রামের মধু বিশ্বাস, আজাদ ডাক্তার, জমসেদ আলী, আনারুল, কাহেরুল, ফকির আলী, ডাঃ জাহিদ, ফজলু, ঝন্টু, সুজন, আলাল, ছোটন, আহাদ মিস্ত্রির বাড়িসহ ৪০টি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়। ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ৩ ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ১১টি ছাগল পুড়ে যায় এবং নগদ টাকা, আসবাবপত্র, ধান, পাট ও খাদ্যদ্রব্যসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বেলা ৪টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ১ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৫ হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দেবার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে একইদিন বেলা ১২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আবুল হোসেন, আফেজউদ্দিন, থফেজুল ইসলাম, জামিরুল, আমিরুল ও আবুল হোসেনের বাড়িতে আগুন লেগে ৭টি ঘর ভস্মীভূত হয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে যায়।
বড়াইগ্রাম (নাটোর)
বড়াইগ্রামে শুক্রবার পৃথক অগ্নিকাণ্ডে ৬টি বাড়ি, ২টি পানের বরজ ও কমপক্ষে ১৫ একর জমির গম ও খেসারি পুড়ে গেছে। এতে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে বনপাড়া পৌরসভার দিয়াড়পাড়া গুচ্ছগ্রামের আব্দুল খালেকের বাড়িতে ছাইয়ের গাদা থেকে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে পার্শ্ববর্তী আশরাফ, সাইদুল, জালোন বেওয়া ও বদর আলীর বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও নাটোর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ ৫ বাড়ির মোট ১০টি ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একই দিন সকালে অগ্নিকাণ্ডে আদগ্রামের রব্বেস প্রামাণিকের বাড়ির তিনটি ঘর পুড়ে যায়। এদিকে সকালে দিয়াড়-গাড়ফা গ্রামের আমজাদ হোসেনের গম কাটা জমিতে আগুন দিলে প্রবল বাতাসের কারণে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ১৫ একর জমির গম ও খেসারি পুড়ে যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে দ্বারিকুশী গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক ও আফসার আলীর পানের বরজে কে বা কারা প্রতিহিংসাবশত আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রীপুর (মাগুরা)
শুক্রবার দুপুরে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরইচারা গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ৮টি পরিবারের ১০টি ঘর পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। নগদ ৫০ হাজার টাকা ধান, চাল, গম ও আসবাবপত্রসহ প্রায় পৌনে ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুয়েল মোল্লার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
চাটমোহর (পাবনা)
পাবনার চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায় শুক্রবার পৃথক ৫টি অগ্নিকাণ্ডে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের শোলমারী অগ্নিকাণ্ডে ১২ বিঘা জমির গম পুড়ে গেছে। পাশের জমি থেকে আগুন লেগে বিলের মন্টু, ঈমান হাজী, সাহেদ আলীসহ ৫ জনের জমির গম পুড়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ দেড় লাখ টাকা। এছাড়া ধূলাউড়ি জেলেপাড়ার বারুর বাড়ি ও হরিপুরে রঘু প্রাং’র বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনগণ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের মনসুর মাস্টারের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বাড়ির ৩টি ঘরসহ সবকিছু পুড়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ ৫ লক্ষাধিক টাকা। অপরদিকে পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীকান্তপুর গ্রামের মামুন হোসেনের বসতবাড়িতে আগুন লেগে ৫টি ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এতে নগদ টাকা, আসবাবপত্র, ধান, গম, হালের ১টি গরুসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর পরই আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ রবিউল ইসলাম, ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত মামুনের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।
দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)
নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মজিবনগর আবাসন প্রকল্পের হতদরিদ্র পরিবারের ১০টি ঘর অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে শুক্রবার রাতে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে ১০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন গায়ের কাপড় ছাড়া কোন কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। আবাসন প্রকল্পের ১৫নং ব্যারাকের ১নং থেকে ১০নং ঘরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হচ্ছেন: নুরজাহান, শহরআলী মিয়া, খসরু মিয়া, ফারুক মিয়া, রজব আলী, বানেছা খাতুন, হাবিব মিয়া, আমেনা খাতুন, পশর আলী, আঃ রশীদ। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সাহায্য ক্ষতিগ্রস্তরা পায়নি।
দুমকী ( পটুয়াখালী)
দুমকি উপজেলা সদরে দুমকি নসিব সিনেমা হলের পাশে শান্তি সাধুর ঘরে দুপুর ১২ ঘটিকার দিকে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুন লেগে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাব্বির আহম্মদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।