ঢাকা যেতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের সমাবেশ

যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় লংমার্চ করে ঢাকায় মহাসমাবেশে যোগ দিতে না পেরে গতকাল শনিবার হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। কোন কোন স্থানে প্রতিবাদ মিছিলও করেছে তারা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যুব লীগ ও শ্রমিক লীগ কর্মীদের হামলায় হেফাজতের ১০ নেতা-কর্মী আহত হন। সিলেট অফিস জানায়, সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে লং মার্চে যোগ দিতে না পেরে হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীরা শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন এবং রাতভর সেখানেই অবস্থান করে তারা ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এ দিকে লংমার্চে যেতে বাধা প্রদান করায় সকালে হেফাজতে ইসলাম নগরীতে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। হেফাজতে ইসলামের সিলেটের সমন্বয়ক মাওলানা মুহিবুল হক জানান, ঢাকায় শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশ থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। কোর্ট পয়েন্টে চলা সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা দেবে না বললেও নানাভাবে লংমার্চ কর্মসূচিকে ব্যাহত করায় চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা বলেন, যেখানে বাধা সেখানেই অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা লংমার্চের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদেরকে খাবার সরবরাহ করছে। দুপুরে সমাবেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম, মহানগর সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম ও বিএনপি নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সমাবেশস্থলে চারটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। কোর্ট পয়েন্টে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হেফাজতে ইসলাম সিলেটের সমন্বয়ক মাওলানা মুহিবুল হক গাছবাড়ি, মাওলানা আব্দুল বাছিত বরকতপুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, পরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকার লংমার্চে যোগ দিতে না পারায় বগুড়ায় মহাসড়কে অবস্থান গ্রহণ করে মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা । কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিলসহ তারা শহরতলীর বনানী মোড়ের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সমবেত হন। ঢাকা থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সমাবেশ চলবে বলে প্রথমে জানানো হলেও বিকেলে আসরের নামাজ শেষে মোনাজাত করে সমাবেশ শেষ করা হয়। এসময় হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার কর্মী সমর্থক জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শ্লোগান দেন। একটি মিছিল শহরের দিকে আসে। তবে পুলিশী বাধার মুখে মিছিলকারীরা শহরে প্রবেশ করতে পারেনি । এরআগে সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং এলাকা হতে কর্মী সমর্থকরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করতে বনানী চত্বরে সমবেত হন। এসময় সকলের হাতে ছিল তসবীহ ও জায়নামাজ। তারা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে জায়নামাজ বিছিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে কর্মসূচি স্থগিত করে সোমবারের হরতাল সফল করার আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল হক আজাদ। হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ স্থলে বিপুল সংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও আমর্ড পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। শহর জুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, হেফাজতে ইসলামের ঢাকামুখী লংমার্চে যাওয়ার সময় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ মোড়ে পুলিশ ২টি বাস আটক করে লোকজনের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে অভিযোগ করে হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে মৌলিক অধিকার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন। গতকাল দিনাজপুর জেল রোডে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। রাস্তার উপর ব্যতিক্রমধর্মী এই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম দিনাজপুরের আহ্বায়ক মওলানা মতিউর রহমান কাশেমী এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা রেজাউল করিম, আব্দুল মান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, লংমার্চ বহর রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশে যতে না পেরে হেফাজতে ইসলামের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া নামক স্থানে গতকাল শনিবার দিনভর অবস্থান কর্মসূচিসহ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি। ফলে হাজার হাজার মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। উপজেলা বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং কয়েকটি ইসলামী সমমনা দলের নেতাকর্মীরা হেফাজতে ইসলামের লোকজনকে পানি ও খাবার বিতরণ করেছে। সরকারের বিভিন্ন সমালোচনা করে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কের উপর বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল ধুলেরচর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল আজিজুর রহমান, মুফতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। এদিকে সকাল সাড়ে দশটার দিকে মির্জাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি জনসভায় যোগদান করতে মোটর সাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম শিপলুকে লাঞ্ছিত করে। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়। রূপগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, রূপগঞ্জে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একটি মিছিলে হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতা-কর্মীরা। আশংকাজনক অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের ১০ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে। হামলায় আহত হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ও মৌলভীবাজার সমসেরনগর মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা ফারুক আহম্মেদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভৈরব এলাকার সিদ্দিকুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, আবদুল আউয়াল, হাফেজ জসিমউদ্দিন, নরসিংদী জেলার রায়পুরার মিজানুর রহমানকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফারুক আহম্মেদ ও হাবিবুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, লং মার্চে যোগ দিতে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা শনিবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা শিল্পনগরী, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও কাঁচপুর পয়েন্টে একত্রিত হয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যানচলাচল বন্ধ থাকায় হেফাজতে ইসলামের লোকজন প্রচণ্ড রোদের মধ্যেই পায়ে হেঁটে লংমার্চে যোগ দেয়ার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হেফাজতে ইসলামের হরতাল বিরোধী ঝটিকা মিছিল গতকাল শহরের মালপাড়ায় বের হয়। পরে মালশাপাড়া কবরস্থানের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, হেফাজতে ইসলামের লং মার্চের গাড়ি বহর ঢাকা যেতে না পারায় গতকাল নরসিংদীর ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে তারা অবস্থান গ্রহণ করে। গত শুক্রবার রাতে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ১২০টি বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারযোগে সহস্রাধিক লোক ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ভোর চারটায় গাড়ীবহর ঢাকা-সিলেট সড়কের নরসিংদীর ভেলানগর বাসস্ট্যান্ডে পৌছলে নামাজের জন্য তারা বিরতি দেয়। এ সময় ২টি গাড়ীতে করে হেফাজতের লোকজন ঢাকার অবস্থা জানার জন্য তারাবো ডেমারা এলাকায় পৌঁছা মাত্র গণজাগরণ মঞ্চেরী কর্মীরা তাদের গাড়ীর উপর হামলা চালায়। এ পর্যায়ে তারা দ্রুত গাড়ি ব্যক করে মোবাইল ফোনে ভেলানগরে অবস্থানকারীদের এ ঘটনা জানায়। সমাবেশে বক্তৃতা করেন, হযরত মাওলানা মুফতী রশিদুর রহমান ফারুক হামিদী, মাওলানা আহমেদ বেলাল, মাওলানা আসাদ আল হোসাইন প্রমুখ। রাজশাহী অফিস জানায়, গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহীর মালোপাড়ার দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অবস্থান কর্মসূচিশেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিভাগীয় মহাসচিব মাওলানা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘লংমার্চের অনুমতির পরও রাজশাহী থেকে কর্মীদের ঢাকায় যেতে দেয়া হয়নি। বাস বন্ধের পর ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তারপরও একটি অংশ ঢাকায় পৌঁছেছে। ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে রাজশাহী হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের আগে অবস্থান কর্মসূচিতে সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা ছলিম উদ্দিন কাশেমী, সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল জব্বার, ওমর ফারুক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। খুলনা অফিস জানায়, লংমার্চে অংশ নিতে না পারা হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা শনিবার সকালে নগরীর নিরালায় ‘ইসলামী মঞ্চ’ তৈরির চেষ্টা করতে গেলে তা পুলিশের বাধার কারণে পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করে। হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা আধাঘন্টা অবস্থান করার পর দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে। এছাড়া গতকাল শনিবার বিকালে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা নগরীর মুসলমানপাড়াস্থ দারুল উলুম মাদ্রাসা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পাল করে। বক্তৃতা করেন হেফাজতে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি মোস্তাক আহমদ, মহাসচিব মাওলানা গোলাম রহমান প্রমুখ। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লংমার্চে যোগ দিতে গতকাল ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে হেফাজতে ইসলাম নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হবিগঞ্জ শহরে আসেন। হেফাজতে নেতাদের মালিকানাধীন কয়েকটি গাড়ী নিয়ে একদল নেতাকর্মী ঢাকায় রওয়ানা হন। তবে জেলা সদর থেকে কোন প্রকার বাস, মিনিবাস চলাচল না করায় হেফাজত নেতাকর্মীদের অধিকাংশই লংমার্চে যেতে পারেননি। সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা থেকে সিলেট সেনানিবাসে যাবার পথে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ীবহর হেফাজত নেতাকর্মীদের অবরোধের মুখে পড়ে। পরে সেনা বহরটি বিকল্প রাস্তা দিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, ফেনী থেকে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ঢাকা যাওয়ার পথে শুক্রবার রাতে ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রাস্তার মাথা নামক স্থানে হেফাজতের গাড়িবহর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় ও দুটি গাড়ী ভাঙচুর করে। এ সময় হেফাজতে ইসলামের ৫ জন আহত হন। দুর্বৃত্তরা নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ও জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ফুলপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, হরতাল-অবরোধের কারণে যানবাহন সংকটে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ঢাকায় যেতে না পারায় গতকাল ফুলপুরে হেফাজতে ইসলামের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা-শেরপুর-হালুয়াঘাট মহাসড়কে ফুলপুর পৌর শহরের কাঁঠালতলায় বালিয়া কওমী মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বালিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আইন উদ্দিন, ফুলপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালেক, ফুলপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ। প্রতিবাদ সমাবেশের আগে হেফাজতে ইসলামের এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তারা নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসিসহ হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত সকল দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ শসা, পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করেন। হোমনা সংবাদদাতা জানান, লঞ্চ ও বাসের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ শনিবার উপজেলার হাজার হাজার মুসল্লি লংমার্চে অংশ নিতে পারেননি। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়, দোকানপাট ও বাড়িতে বাড়িতে টেলিভিশনে লংমার্চ ও ঢাকার মহাসমাবেশের দৃশ্য দেখেন মুসল্লীসহ সাধারণ লোকজন। ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, লংমার্চে যেতে না পারায় ছাতকে হেফাজতে ইসলাম অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় কয়েক হাজার তৌহিদী জনতা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি চলাকালে মাওলানা ইমাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা জামিলুর রহমান, মাওলানা আবুর খায়ের, মাওলানা আক্তার হোসেন, মাওলানা বদরুল আলম প্রমুখ। বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। বক্তারা বলেন, সরকারের ইঙ্গিতেই সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ও নৌপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে ছাতকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ তৌহিদী জনতা নির্ধারিত লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেনি। ঢাকার ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না বলে উল্লেখ করেন। এদিকে ছাতকে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন, সাবেক এমপি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। হেফাজতে ইসলামের মুসল্লীদের মাঝে তার পক্ষ থেকে ৮শ’ বোতল পানি, কলা রুটিসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেনসহ ছাতকের অনেক ব্যবসায়ীও হেফাজতে ইসলামের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, হেফাজতে ইসলামের ডাকা ঢাকার লংমার্চে অংশগ্রহণের জন্য গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত চেষ্টা করে ব্যর্থ নেতা-কর্মীরা সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থান নেয়। সারারাত অবস্থান শেষে গতকাল সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে উপজেলা সদরের কুট্রাপাড়া খেলার মাঠে তারা মহাসমাবেশ করেছে। সমাবেশে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫ সহস্রাধিক লোক অংশগ্রহণ করে। প্রবীণ আলেম মাওলামা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামান সিরাজী, সম্পাদক মাওলানা মোবরক উল্লাহ প্রমুখ। মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) স্থানীয় এমপি জিয়াউল হক মৃধার পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের পানি পান করানো হয়। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, হেফাজতে ইসলাম কক্সবাজারের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বাধা সৃষ্টির কারণে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ কক্সবাজার থেকে লংমার্চে যেতে পারেননি। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, ছুটির দিনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নামসর্বস্ব সংগঠনের নামে হরতাল ও শাহবাগীদের দিয়ে অবরোধ ডেকে কোটি কোটি রাসূলপ্রেমী (সা:) মানুষের মনে কষ্ট দিয়েছে এই সরকার। আগে থেকে ঘোষিত একটি ধর্মীয় কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার নিন্দা জানান তারা। সারাদেশে আটক নেতা-কর্মীদেরও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ আবদুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি এনামুল হক প্রমুখ। রংপুরে ঘাতক-দালাল নির্মূল ও গণজাগরণ নেতৃবৃন্দকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা রংপুর প্রতিনিধি জানান, ঢাকায় লংমার্চের কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পেরে হেফাজতে ইসলাম, রংপুর এর নেতৃবৃন্দ গতকাল শনিবার মহানগরীর রাজা রামমোহন মার্কেটের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে। জেলা কমিটির আহবায়ক ও জুম্মাপাড়া করিমীয়া নুরুল উলুম মাদরাসার উপ-উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা রংপুরে ৭১’র ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক ও গবেষক শাহরিয়ার কবির, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপত্র ডাঃ ইমরান এইচ সরকারকে রংপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্য বক্তব্য রাখেন ক্বারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মান্নান, মাওলানা রেজাউল করিম, হাফেজ মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন প্রমুখ।