নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারের ‘ব্যবসার’ ফাঁদে প্রাণ গেল প্রসূতি মায়ের

খানপুর ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের এক ডাক্তারের ব্যবসার ফাঁদে পড়ে কামরুন্নাহার কবিতা (৩৪) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানির পর অভিযুক্ত ডাক্তার গাইনী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট জাহাঙ্গীর আলম সলিমুল্লাহ সড়কে প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ওই প্রসূতির স্বজনরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।

কামরুন্নাহার চৌধুরীবাড়ি তাঁতখানা এলাকার ব্যবসায়ী রাসেলের স্ত্রী। তার বড় ভাই তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘গত রবিবার সকালে বোনকে নিয়ে তিনশ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চেকআপের জন্য আসি। ডা. জাহাঙ্গীর আলম রিপোর্ট দেখে তার সহকারী সোহরাব হোসেনের মুখ দিয়ে বলান— রিপোর্টে জটিল সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এক ঘন্টার মধ্যেই অপারেশন করাতে হবে। তিনি দ্রুত রোগীকে ইউনিক হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। অপারেশনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। আমরা ১৫ হাজার টাকা দিতে সম্মত হই। ডাক্তারের দুরভিসন্ধি বুঝতে ব্যর্থ হয়ে সরল বিশ্বাসে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোনকে ইউনিকে ভর্তি করাই। জাহাঙ্গীর এক ঘন্টার মধ্যে অপারেশনের তাগিদ দিলেও তিনি নিজেই হাসপাতালে আসেন বিকালে। এসেই সিজার করেন। ১৫ মিনিট পর তিনি অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে বলেন, রোগী এবং বাচ্চা দুজনই ঠিক আছে। এরপর তিনি দ্রুত হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। ঘন্টাখানেক পর ফোন করে বলেন, রোগীর অবস্থা খারাপ, জরুরিভিত্তিতে রক্ত লাগবে। আমি ২০ মিনিটের মধ্যেই রক্তের ব্যবস্থা করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত না যেতেই আমার মা-বাবার কান্না শুনতে পাই। পৌঁছে দেখি আমার বোনের কোনো সাড়াশব্দ নেই। তারা হাসপাতাল থেকে আমার বোনের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। নিষ্ঠুর ডাক্তার মানুষের জীবনকে তুচ্ছ করে ব্যবসা করে নিলেন। তিনি সরকারি হাসপাতালে অপারেশন না করে ব্যবসার জন্য ওই হাসপাতালে আমাদের পাঠালেন।’ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা খানপুর হাসপাতালের সেই ডাক্তারকে খোঁজাখুঁজি করে এবং তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাচ্ছিলামনা। পরে জানতে পেরেছি তিনি প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।’

এদিকে, অভিযুক্ত ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমার অপারেশন করার দরকার অপারেশন করেছি। অপারেশনের পর রোগী ও বাচ্চা ভালো ছিল। এরপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। পরে কি হয়েছে সেটি আমি বলতে পারব না।

জানা গেছে, নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তবে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, জাহাঙ্গীর তাদের হাসপাতালে বসেন না। তাহলে কেন সেখানে ঢুকেছেন জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আশ্রয় তো নিতেই পারে। সংবাদ পেয়ে সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে তিনি নিহতের স্বজন কিংবা অভিযুক্ত ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেননি। ঘটনাস্থলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার দুজন নেতাও রয়েছেন।