মাতামুহুরী রাবার ড্যাম উপচে ঢুকে পড়ছে লবণ পানি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর পালাকাটা পয়েন্টের রাবার ড্যাম উপচে ঢুকে পড়েছে লবণ পানি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে সঠিক সময়ে রাবার ড্যামের ব্যাগ ফুলিয়ে না দেয়ায় নীচের লবণ পানি সহজে রাবার ড্যাম উপচে উজানে ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা এ লবণ পানি ব্যবহার করে জমিতে সেচের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যামে অথৈ পানি রয়েছে। কিন্তু তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে নদীর রামপুর পালাকাটা পয়েন্টের রাবার ড্যামে। গত একমাস ধরে পালাকাটা রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যাম এলাকায় মিঠাপানি শূন্য পয়ে পড়েছে। তবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ড্যাম উপচে নীচের লবণ পানি ঢুকে পড়েছে উজানে। উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন জানান, মাতামুহুরী নদী পালাকাটা পয়েন্টের রাবার ড্যামে পানি শুকিয়ে গেছে একমাস ধরে। কিছুদিন আগে ড্যাম উপচে লবণ পানি ঢুকে পড়েছে। ফলনের ক্ষতি হবে এটা জেনেও তারা বর্তমানে অনেকটা বাধ্য হয়ে আমন ক্ষেতে এ লবণ পানি দিয়ে সেচ দিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি বর্গাচাষী সমিতির সভাপতি মো.মহিউদ্দিন পুতু বলেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ড্যাম উপচে উজানে ঢুকে পড়েছে লবণ পানি। এসব লবণ পানি বোরো ধান ক্ষেতে সেচে ব্যবহার করে এলাকার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। শত শত একর জমিতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চিরিঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন বলেন, সঠিক সময়ে রাবার ড্যামের ব্যাগ ফুলিয়ে দেয়া হলে নদীতে লবণ পানি ঢুকতে পারতো না। পাউবো’র সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে লবণ পানি ঢুকে পড়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো’র) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, পাউবো’র গাফেলতির অভিযোগ সত্য নয়। পাউবোর কর্মকর্তারা খবর পাবার পর ব্যাগ ফুলিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।