স্বাস্থ্যখাতে সাফল্য আছে, আছে ব্যর্থতাও

স্বাস্থ্য খাতে মহাজোট সরকারের সাড়ে চার বছরে বহু সাফল্য যেমন আছে, তেমনি আছে ব্যর্থতাও। সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সিনিয়র স্টাফ নার্সদের চাকরিতে প্রবেশকালীন পদ মর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে। নার্সরা এখন সেই অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে এই প্রক্রিয়ার এখন পর্যন্ত বিধি-বিধান তৈরি হয়নি। সরকার ঘোষিত পদমর্যাদার পর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক নিয়োগ নেয়ার কথা। বিধি-বিধান তৈরি না হওয়া নার্স নিয়োগে জটিলতা রয়েই গেছে। সরকারের মেয়াদের শেষ দিকেও চাকরি বিধি প্রস্তুত না হওয়ার জন্য আমলাদের দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের নানা প্রান্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকরা থাকছেন না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী দফায় দফায় নির্দেশ দিলেও চিকিত্সকদের গ্রামাঞ্চলে রাখতে প্রশাসন ব্যর্থ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে বলেন, নার্স নিয়োগের বিধি-বিধান প্রস্তুত না হওয়া ও গ্রামাঞ্চলে চিকিত্সকদের না রাখার ব্যর্থতা থেকেই যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ডিপিসির মাধ্যমে দেড় হাজার চিকিত্সকের পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতি ছাড়াই অনেক চিকিত্সক প্রতিবছর অবসরে যেতেন। স্বাস্থ্য ক্যাডার ছাড়া বাকি ২৯টি ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ডিপিসির মাধ্যমে হতো। আর স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পিএসসির মাধ্যমে হওয়ার বিধান ছিল। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমলাতন্ত্রের এই রীতি ভেঙ্গে চিকিত্সকদের পদোন্নতি পিএসসির বাইরে ডিপিসির মাধ্যমে করতে সক্ষম হয়। চিকিত্সকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা আর ভোগান্তির অবসান ঘটায় স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু ডিপিসির মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক চিকিত্সকের পদোন্নতি হলেও অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম-নীতি মানা হয়নি। জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের চেয়ে দলীয় পরিচয় ও উেকাচ বাণিজ্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ চিকিত্সকদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র দলবাজ চিকিত্সকদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। শীর্ষ কর্মকর্তারাও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। স্বাস্থ্যখাতের ক্রয়খাতেও বাণিজ্য- দুর্নীতি হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) এক নেতা এই বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগেও হয়েছে বাণিজ্য। অথচ সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছিল প্রতি ঘরে একজন করে চাকরি দেবে। সেইক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে আউট সোর্সিংয়ের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানরাই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিয়োগ প্রাপ্তদের কথায় কথায় বিদায় করে দেয়া হয় -এমন অভিযোগ উঠেছে। ক্যাডার, নন ক্যাডার, এডহক ও প্রকল্পে নিয়োজিত চিকিত্সকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে। ৮টি বিএসসি নার্সিং কলেজে শিক্ষকদের কোন পদোন্নতি নেই। অধ্যক্ষসহ সকল শিক্ষকের মূল পদে রয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স। তারা চলতি দায়িত্বে থেকেই অবসরে যাচ্ছেন। আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। নার্সিং কলেজের শিক্ষকদের পদোন্নতি না হওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের চরম উদাসীনতাই দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশ-বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রীধারী নার্সদের সংখ্যা কয়েকশত। এ সরকারের সময় মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার অনেক গুণ হ্রাস পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের পুরস্কার পেয়েছেন। ইপিআই ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সফলতাও উল্লেখ করার মতো। গড় আয়ু বৃদ্ধি হয়েছে। হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে সফলতা অনেক। গরীব রোগীরাই এতে বেশি উপকৃত হয়েছে। বেকার ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ পেয়েছেন অতীতের চেয়ে দ্বিগুণ। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া ভর্তি ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা উপকৃত হয়েছে। বেসরকারি পর্যায় মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির সমস্যা অনেক গুণ কমে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মোঃ সিফায়েত উল্লাহ বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যের রেকর্ড ভেঙ্গেছে বর্তমান সরকার। এর মধ্যে আজ রবিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্বস্বাস্থ্য দিবসের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এডভোকেট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যার: নিরাপদ জীবন তার”।