এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি
সুনির্মল চন্দ্র বসু, প্রভাষক, মুজিব ডিগ্রি কলেজ, কাদেরনগর, সখীপুর, টাঙ্গাইল
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২০
আমার শুভেচ্ছা নিও। আজ তোমাদের জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রথম অধ্যায়: উদ্ভিদের বিভিন্নতা এর ১ম পরিচ্ছেদ: উদ্ভিদজগতের শ্রেণীবিন্যাস থেকে ৩টি প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হল।
প্রশ্ন: আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস কাকে বলে?
উত্তর: কোষ ও তার অঙ্গাণুর গঠন ও জীববিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার আধুনিক তথ্য ব্যবহার করে তৈরিকৃত শ্রেণীবিন্যাসকে আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস বলে।
প্রশ্ন: প্রাকৃতিক ও জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস-এর মধ্যে পার্থক্য লিখ।
উত্তর: প্রাকৃতিক ও জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস-এর মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
বৈশিষ্ট্য প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস
১. সংজ্ঞা এ শ্রেণীবিন্যাসে শুধু অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। এ শ্রেণীবিন্যাসে অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি অভিব্যক্তির ধারণা বিবেচিত হয়।
২. বিবর্তনের ধারা এককসমূহ বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী সাজানো হয় না। এককসমূহ বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী সাজানো হয়।
৩. ধারণা আদি ও উন্নত গ্রুপ সম্পর্কে কোন ধারণা প্রকাশ করে না। আদি ও উন্নত গ্রুপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠে।
৪. এককের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম বেশি
৫. উদাহরণ বেনথাম-হুকার প্রণীত শ্রেণী বিন্যাস এঙ্গলার-প্রান্টল, হাচিনসন প্রণীত শ্রেণীবিন্যাস।
প্রশ্ন ঃ একটি আধুনিক শ্রেণীবিন্যাসের পরিলেখ/বর্ণনা/উদাহরণ ও বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তরঃ থিয়োফ্রাস্টাস, লিনিয়াস বা বেনথাম-হুকার এর শ্রেণীবিন্যাসে ব্যাকটেরিয়া অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবকে অন্তর্ভুক্ত করে একাধিক শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে Whittaker একটি Five Kingdom পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। তিনি সব কোষীয় জীবনে Monera, Protista, Plantae, Fungi এবং Animalia এ ৫টি কিংডমে ভাগ করেন। তারপর Margulis ১৯৭৪ সালে Whittaker-এর শ্রেণীবিন্যাসকে পরিবর্তিত ও বিস্তারিত করেন। তিনি জীবজগতকে ২টি সুপার কিংডম ও ৫টি কিংডমে ভাগ করেন।
Margulis এর ফাইভ কিংডম শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি:
জীবজগত্
সুপার কিংডম: প্রোক্যারিওটা (Prkaryota) সুপার কিংডম: ইউক্যারিওটা (Eukaryota)
কিংডম: মনেরা কিংডম: প্রোটকটিস্টা, কিংডম: ফানজাই, কিংডম: প্লান্টি , কিংডম:অ্যানিমালিয়া
সুপার কিংডম-১: প্রোক্যারিওটা (Prokaryota)ঃ এরা এককোষী, আণুবীক্ষণিক এবং প্রোক্যারিওটিক বা আদিকোষী জীব।
কিংডম: মনেরা (Monera)বৈশিষ্ট্য
১। এরা এককোষী, সূত্রাকার, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়াল।
২। কোষে নিউক্লিয়ার পদার্থ থাকলেও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস নেই।
৩। ক্রোমাটিন বডিতে DNA আছে কিন্তু প্রোটিন নেই।
৪। এদের সাইট্রোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু যেমন প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই। ৫। অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষবিভাজন হয়।
উদাহরণ: Bacillus albus, Nostoc linckia.
সুপার কিংডম-২: ইউক্যারিওটা (Eukaryota)ঃ এরা সুকেন্দ্রিক, এককোষী থেকে বহুকোষী, একক বা কলোনি আকারে দলবদ্ধ জীবনযাপন করে।
কিংডম-১ঃ প্রোটকটিস্টা (Protoctista) বৈশিষ্ট্যঃ
১। এরা একাকোষী বা বহুকোষী, যারা এককোষী তারা এককভাবে বাস করে বা কলোনিয়াল। ২। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসযুক্ত নিউক্লিয়াস থাকে।
৩। এদের ক্রোমাটিন বডিতে DNA, RNA এবং প্রোটিন আছে।
৪। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি থাকে।
৫। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজণন হয়।
উদাহরণঃ Spirogyra hyalina, Amoeba proteus
কিংডম-২ঃ ফানজাই (Fungi)
বৈশিষ্ট্য ১। এরা মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে কাজ করে। ২। অধিকাংশ বহুকোষী এবং স্থলজ। ৩। এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। ৪। এরা মোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। ৫। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
উদাহরণঃ Penicillium notatum, Agaricus, campestris
কিংডম-৩ঃ প্লান্টি (Plantae)
বৈশিষ্ট্যঃ ১। এরা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব।
২। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে। এদের ক্লোরোফিল ‘এ’ এবং ক্লোরোফিল ‘বি’ প্রধান সারোকসংশ্লেষণকারী রঞ্জক।
৩। কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত এবং কোষে প্রায়ই বৃহদাকার গহ্বর থাকে।
৪। উন্নত টিস্যুবিন্যাস থাকে। ৫। যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস বা ড্রগ্যামাস।
প্লান্টিকে ২টি গ্রেড এ ভাগ করা হয়েছে।
যথা:গ্রেড (১) ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) বৈশিষ্ট্য: উদ্ভিদ গ্যামিটোফাইটিক।
গ্রেড (২)ঃ ট্রাকিওফাইটা (Tracheophyta) বৈশিষ্ট্য: ১। উদ্ভিদ স্পোরোফাইটিক। ২। এদের পরিবহনতন্ত্র আছে। উদাহরণঃ Cycas pectinata. ২। এদের পরিবহনতন্ত্র নেই। উদহারণঃ Riccia gangetica
কিংডম-৪: অ্যানিম্যালিয়া (Animalia)
বৈশিষ্ট্য:১। এরা সুকেন্দ্রিক ও বহুকোষী জীব এবং সাধারণত হলোজয়িক অর্থাত্ জটিল জৈব পদার্থ আহার করে। ২। কোষে কোষপ্রাচীন, প্লাস্টিড ও বৃহদাকার গহ্বর নেই। ৩। ভিন্নভোজী স্বভাবের। ৪। এদের ক্লোরোফিল নেই। তাই খাদ্যের জন্য এরা পরনির্ভর। প্রধান খাদ্যগ্রহণ পদ্ধতি গলাধঃকরণ।