মু খো মু খি

হয়তো ভালো কিছু অপেক্ষা করছে আমার জন্য

বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন? আসলে আমি বেশি ব্যস্ত আমার মেয়েকে নিয়ে। মিডিয়ায় খুবই অল্প কাজ করছি। সন্তানকে সময় দেওয়ার পর যদি সময় থাকে তাহলেই নাটক করছি। যেমন মাত্র দুইটি ধারাবাহিক করছি, এসএ টিভিতে ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’ এবং এশিয়ান টিভিতে ‘জীবন সংসার’। আরও একটা ধারাবাহিকের কথা চলছে, তবে সংশয় আছে করব কি করব না। সবই তো ধারাবাহিক, এক ঘণ্টার নাটক কি তাহলে করছেন না? আসলে আমার জন্য এক ঘণ্টার নাটকই সুবিধা। কিন্তু দুইটা ধারাবাহিকে কাজ করলেই মাসে ১০ থেকে ১২ দিন চলে যায়। এর চেয়ে বেশি কাজ করতে চাচ্ছি না আপাতত। কেননা বাকি সময়টা আমি আমার মেয়ের সঙ্গেই কাটাতে চাই। তবে যে মাসে দেখা যায় যে, ধারাবাহিকের চাপটা কম তখন দুয়েকটা এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করি। এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে মেয়েকে সুন্দরভাবে লালন করা। আর নাটক কিন্তু আমি জীবিকা নির্বাহের জন্য করি না, শুধুই ভালোবাসার তাগিদেই করি। তাই ওখানটায় মাসে দশ-বারো দিন দিলেই যথেষ্ট। তাহলে সন্তানকে নিয়ে কেমন সময় কাটছে আপনার? খুবই ভালো সময় কাটছে, আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় কাটছে এখন। মা হওয়াটা যে এত আনন্দের, মা না হলে হয়তো বুঝতাম না। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি একটা মেয়ের জীবনে হতে পারে না বলেই আমার মনে হয়। আর তাই সে আমার কাছে এই মুহূর্তে সব কিছুর ঊর্ধ্বে। মাতৃত্বজনিত কারণে দীর্ঘদিন মিডিয়া থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এই গ্যাপটা পূরণ করার জন্য কি কোনো পরিকল্পনা করছেন? এই গ্যাপটা তো আমি ইচ্ছে করেই নিয়েছি। কেউ যদি বলে যে, আমি কাজকে ভালোবাসি তাই বাচ্চাকে ফেলেই চলে এসেছি, তাহলে সেটা ভুল। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার জন্য আগে সন্তান। আর মিডিয়ায় কাজের সুবাদে আমি আরও বেশি লাকি। আমি তো আর চাকরি করছি না যে, তিন মাস পর আবার জয়েন করতে হবে। আমি যেই ক’দিন শুটিং করছি, আমি কিন্তু আমার মেয়েকে নিয়েই যাচ্ছি। তাকে সঙ্গে রেখেই শুটিং করছি। এ জন্য আমি মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ। আর এই গ্যাপে আমার ক্ষতি হয়েছে বলে কিছু দেখছি না। বরং ভালো হয়েছে। কারণ আমি আগে যেসব ক্যারেক্টারে কাজ করতাম এখন তার চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। পরিচালকরা আমাকে অনেক ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজের প্রস্তাব দিচ্ছে। যেমন ‘জীবন সংসার’, অত্যন্ত ভালো একটি গল্প। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো পুরো গল্পটা আমাকে কেন্দ্র করেই। আমি বাড়ির লক্ষ্মী একজন বউ, আর এই লক্ষ্মী বউকে ঘিরেই ধারাবাহিকের গল্প এগিয়ে যায়। এখন যেক’টি নাটকে কাজ করছি তার সবক’টিতেই আমি কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করছি। আমি মনে করি যে, এই গ্যাপটা আমার জন্য পজেটিভ হয়ে এসেছে। এমনকি গ্যাপকে গ্যাপই মনে হচ্ছে না। আর আমার কাছে তো সন্তানই ফার্স্ট প্রায়োরিটি। অভিনয়ে আপনার পরিবার থেকে কেমন সাপোর্ট পাচ্ছেন? আমাকে তো আমার স্বামী জেনেই বিয়ে করেছে যে আমি অভিনেত্রী। আর এমন মেয়েকেও তো বিয়ে করেনি যে একটা অ্যাড বা দুয়েকটি নাটক করেছে। যখন বিয়ে করেছি তখন মিডিয়াতে পাঁচ বছরের মতো হয়ে গেছে। অনেক ব্যস্ততার সঙ্গে কাজ করছিলাম। তাই মিডিয়ায় আমার কাজ নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি বা আক্ষেপ নেই। বরং সহযোগিতা আছে। আর আমি যেই গ্যাপটা নিয়েছি এটাতো আমার ইচ্ছেতেই, এখন যে দুয়েকটি নাটকে কাজ করছি এটাও আমার ইচ্ছেতেই করছি। এখন তো ছোটপর্দার অনেকেই চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে আপনি কি কিছু ভাবছেন? আমি লাক্স থেকে সফল হওয়ার পর থেকেই চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম। চলচ্চিত্রে কাজ করাটা একটা বড় স্বপ্ন আমার। কমার্শিয়াল ফিল্মে আমার দুর্বলতা আরও বেশি। আল্টিমেটলি কেন জানি ব্যাটে বলে মিলেনি। অনেক বড় বড় পরিচালকের সঙ্গে কথাও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত করা হয়ে ওঠেনি। মনে হয় আরও ভালো কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে আমার জন্য।