বাজেট নিয়ে নানামুখী চাপে
ওবামা প্রশাসন
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্য সামনের সপ্তাহটা এক কঠিন সময় হিসেবে পার হবে। নানা হিসাব- নিকাশে তিনি বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হবার আগে যুক্তরাষ্ট্রবাসী কোনদিন কল্পনা করতে পারেননি ওবামা এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা হয়তো এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি কোনদিন। বারাক ওবামা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী সপ্তাহে। অপ্রিয় এ কঠিন কাজটি বারাক ওবামা করছেন বাধ্য হয়ে। বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় যেখানে সব দেশ হিমশিম খাচ্ছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়। বড় আকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় এ দুটি খাতে বরাদ্দ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ওবামার জন্য কঠিন ছিলো তা সহজে অনুমান করা যায়।
আর্থিক নীতি থেকে ওবামার সরে যাওয়ার বিষয়টি অনেকে ইতিবাচক হিসেবে না দেখলেও নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে ওবামার সামনে এর বাইরে কোন পথ নেই। আগামী বুধবার ওবামা যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন তাতে সবকিছু পরিষ্কার হবে। ইতিমধ্যে রিপাবলিকানরা অনুমান করতে পেরেছেন যে, ওবামা সরকার স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট কাটছাঁট করতে যাচ্ছেন। ওবামার বাজেট নীতির সমালোচনা এই প্রথম নয়। এর আগে ধনীদের ওপর বেশি হারে কর বসানোর প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন রিপাবলিকানরা। তাদের মনে এ ধারণা জন্মেছে যে, ওবামা প্রশাসন শুধু সুবিধা কেটে নেয়ার পক্ষে। সামরিক বাজেটও কেটে নিয়েছেন ওবামা— যা পহেলা মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে।
ওবামার বাজেট কাটছাঁটের সমালোচনা হলেও এক্ষেত্রে তিনি খোলামেলা নীতির কথা শুনিয়েছেন সবাইকে। এক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, বাজেট ঘাটতির যে বোঝা জাতির ওপর চেপেছে তা আর সামনে বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যাতে হালকা বোধ করে সে ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসও বিশ্বাস করে, রিপাবলিকানরা ওবামার নীতির সমালোচনা করলেও অধিকাংশ আমেরিকান মনে করে, রিপাবলিকানরা জাতীয় অর্থনীতিকে অচল করে রেখে গেছেন। ধনীদের ওপর বেশি হারে কর বসানোর যে নীতি ওবামা নিয়েছিলেন তার ফল পাওয়া শুরু হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস মনে করে। অতিরিক্তহারে কর বসানোর কারণে রাজস্ব আয় বেড়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি অর্থ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ব্যয় করা যাবে। ওবামাও মনে করেন, ধনীদের ওপর কর বাড়ানো হলে তাদের জীবনযাত্রার মানে তেমন পরিবর্তন আসবে না। বরং তাদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ দিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের সেবা বাড়ানো যাবে। তবে নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় কমানো হলে সমাজে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। রিপাবলিকানরাও বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যেসব কর্মসূচি রয়েছে তার অধিকাংশই বয়স্কদের জন্য। তাদের সুযোগ-সুবিধা কমানো হলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে।
এদিকে গেল ফেব্রুয়ারি মাসে বারাক ওবামা বাজেট পেশ করার কথা থাকলেও নানামুখী বিরোধিতার কারণে সেটি এখনো সম্ভব হয়নি। প্রায় ডজনখানেক রিপাবলিকান সিনেটর সম্প্রতি যে যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন তা ওবামা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলছে। শুধু সামাজিক নিরাপত্তা খাত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ওবামা প্রশাসন যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কোন কোন রিপাবলিকান এই অভিযোগ তুলেছেন যে, ওবামা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে যাচ্ছেন। বাজেট ঘোষণার আগে ওবামা মনে করছেন, তিনি তার যুক্তিগুলো রিপাবলিকানদের বুঝাতে সক্ষম হবেন। কিন্তু কোন কোন রিপাবলিকান ইতিমধ্যে বলে দিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে কোন আপোষ নয়।
হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওবামার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি আগামী ১০ বছরে ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে তামাকজাত পণ্য থেকে কীভাবে কর আদায় বাড়ানো যায় তা নিয়েও চিন্তা আছে ওবামার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওবামা সরকার আগামী ১০ বছরে তা সাড়ে ৫ শতাংশ হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। তবে ওবামার জন্য সবচেয়ে পীড়াদায়ক হলো প্রতিবছরই তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের সুদ বাবদ ২০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা ওবামা কী রকম বাজেট দেন সে দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।