প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৬
ভক্তদের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারবেন হিলারি!
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৫
হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি, সাবেক সিনেটর এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এতগুলো পদে থাকলেও পদ তাকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়নি। জনপ্রিয়তা দিয়েছে তার দায়িত্ব পালনে সফলতা। ফার্স্ট লেডি থাকাকালেই তিনি সারা বিশ্বের নারী অধিকার আদায়ে কাজ করা শুরু করেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন সারা বিশ্ব। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশের নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, নারীরাও পারে। বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভক্তরা ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে কেবল প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নয়, তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দেখতে চান। আর সেটি হলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে ২০১৬ সালে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নারী আন্দোলন নিয়ে নিউজউইক এবং দ্য ডেইলি বিস্ট-এর একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু অনুষ্ঠানের বাইরে তার ভক্তদের শ্লোগান ছিল ‘হিলারির জন্য প্রস্তুত হও’। হিলারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই তার সামনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রসঙ্গটি আসছে। হিলারির একটি ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি ২০১৪ সালে নিশ্চিত করতে পারেন হিলারি। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিলারি তার ভক্তদের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারবেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়। অনেকে মনে করছেন, হিলারি আগামী বছরগুলো জনহিতকর কাজ করে মানুষের আরো কাছে আসার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। গত সপ্তাহে তিনি দেশটিতে সমকামী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হয়েছেন। তিনি সমকামীদের বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন এবং নাগরিক হিসেবে তাদের সমঅধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী বছরের জুনে তার স্মৃতিকথা নিয়ে একটি বই প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বইতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার বিভিন্ন কাজের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। এই বই তার জনপ্রিয়তা আরো বাড়াতে পারে। এর আগে ২০০৩ সালে তিনি ‘লিভিং হিস্টোরি’ লিখে জনপ্রিয়তা পান।
সাবেক ফার্স্ট লেডি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও তাকে শিডিউল হিসেব করেই চলতে হচ্ছে। ওয়াশিংটনের কানেক্টিকাট এভিনিউয়ে তার ছোট্ট অফিস রয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত ছয়জনের মতো কর্মকর্তা রয়েছেন। হিলারিকে নির্বাচন তহবিল সহায়তা দিতে ইতোমধ্যেই অনেক ডোনার তার অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তারা কর্মকর্তাদের তহবিলের পরিমাণ কেমন হবে তা জানানোর অনুরোধ করছেন। তার অনুসারীরা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য একটি কমিটি গঠনের ব্যাপারেও প্রস্তুত রয়েছেন। অনেক সমালোচক হিলারির বয়স নিয়েও প্রশ্ন করেছেন। ২০১৬ সালে হিলারি বয়স হবে ৬৯ বছর। তখন তার পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তাদের। তবে এর জবাবও আছে। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ৬৯ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিলেন এবং নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দেশটির কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির সাম্প্রদিক এক জরিপে দেখা গেছে, হিলারি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান থেকে সম্ভাব্য শক্ত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ক্রিস ক্রিস্টিকে হারাতে পারেন। ক্রিস্টি বর্তমানে নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর। রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যে আরো আছেন মার্কো রুবিও এবং পল রাইয়ান। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থাটির সহকারি পরিচালক পিটার ব্রাউন বলেছেন, অন্যদের চেয়ে হিলারি নির্বাচনী প্রচারে বেশি সুবিধা পাবেন। কারণ তিনি গত ২০ বছর ধরে মানুষের কাছে পরিচিত একটি মুখ এবং আমেরিকানদের ওপর তার একটা প্রভাব আছে। জরিপে হিলারি পান শতকরা ৪৫ ভাগ এবং ক্রিস্টি পান ৩৭ ভাগ সমর্থন। অন্যদিকে রাইয়ান ৩৮ ভাগ এবং হিলারি পান ৫০ ভাগ সমর্থন। এছাড়া মার্কো রুবিও যেখানে ৩৪ ভাগ, সেখানে হিলারি পান ৫০ ভাগ সমর্থন। এর আগে এই প্রতিষ্ঠানটির এক জরিপে জানানো হয়েছিল, হিলারি দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। হিলারি গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নেন। তার স্বামী বিল ক্লিনটন ১৯৯২ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায়। গ্যালপের এক জরিপে দেখা যায়, আমেরিকানরা তাকে সবেচেয়ে সফল নারী হিসেবে নির্বাচিত করেছে ১৭ বার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দেশ ভ্রমণেরও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এক জরিপে দেখা গেছে, তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নেয়ার সময় ৭০ শতাংশ নাগরিক তাকে সমর্থন করেছে যা ১৯৪৮ সালের পর সর্বোচ্চ। একমাত্র কলিন পাওয়েল ব্যতিক্রম। প্রেসিডেন্ট ওবামার মতে, হিলারি সবচেয়ে সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে হিলারি ফার্স্ট লেডি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উচ্চশিক্ষিত হিলারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় তার সমালোচনা হলেও তা ঢোপে টেকেনি।
১৯৪৭ সালে শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী হিলারি ইয়েল ল কলেজে পড়ার সময় বিল ক্লিনটনের সঙ্গে পরিচয় হয়। ১৯৭৫ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হিলারিকে ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার লিগ্যাল সার্ভিস করপোরেশন বোর্ডে নিয়োগ দেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিল ক্লিনটন। তখন হিলারি ছিলেন ফার্স্টলেডি। ২০০০ ও ২০০৬ সালে তিনি নিইয়র্কের সিনেটর নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য লড়াই করলেও বারাক ওবামা কাছে হেরে যান। ২০০৮ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১২ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার কথা বলার দক্ষতা এবং মানুষের সঙ্গে তার ব্যবহার এবং তাদের প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। হিলারির সঙ্গে কাজ করছেন তার বন্ধু লিসা মাসকেতিন। তিনি জানান, কোনো কাজে জয়ী হলে কিংবা হারলে কেমন প্রতিক্রিয়া হবে এবং সেক্ষেত্রে তার কী করা উচিত হবে সেটি হিলারি আগেই চিন্তা করতেন। তার মতে হিলারি খু্বই আশাবাদী। তিনি সামনের বিষয় ভাবেন।