চলনবিলের খিরা চাষিরা হতাশ
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৫
খিরা গ্রীষ্মকালীন মুখরোচক সবজি। গ্রাম কি শহরে খাবারের প্রধান তালিকায় সালাদ হিসাবে খিরার জুড়ি নেই। দেশের সর্বত্রই জনপ্রিয় এই সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি প্রযুক্তিতে সারা বছরই কম বেশি খিরা পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে এই সবজির ভরা মৌসুম ফাল্গুন ও চৈত্র মাস। খিরা চাষে বেশি লাভ পাওয়ার কৃষিপ্রধান চলনবিলের কৃষকরা বিগত কয়েক বছর ধরে খিরা চাষেই ঝুঁকে পড়েছেন বেশি। চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া ও তাড়াশ উপজেলার সীমান্তবর্তী আয়েশ, বিয়াশ, বড়গ্রাম, দিঘড়ীয়া, মনোহরপুর, তালম সড়াতোলাসহ পার্শ্ববর্তী ৮/১০টি গ্রাম এখন খিরা চাষিরা গ্রাম হিসাবেই পরিচিত। কৃষিপ্রধান এসব গ্রামের মাঠে জুড়ে ইরি-বোরো ধানের আবাদ নেই বললেই চলে। যেদিকে তাকানো যায় শুধু খিরা আর খিরা। কিন্তু দুঃখের বিষয় মৌসুমের শুরুতে খিরার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি দেখা দিলেও এখন তাদের মুখে আর সেই হাসি নেই। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে বস্তা-বস্তা খিরা উঠলেও দাম না পাওয়ায় বাজার থেকে ফিরছেন মন খারাপ করে। ঘন ঘন হরতাল, অবরোধ ও স্বার্থলোভী ব্যবসায়ীদের কৌশলগত কারণে খিরা চাষিরা এবার পানির দামে পণ্য বিক্রি করছেন এবং চাপা কান্না বুকে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। ফলে এই অঞ্চলের ৯৫% খিরা চাষিই এখন লাভের পরিবর্তে লোকসানের হিসাবই করছেন। মূলত খিরা চাষ যতটা লাভজনক ঠিক ততটাই ঝুঁকিপূর্ণও। অনেকেই তাই এই আবাদকে লটারির মতো ভাগ্যের চাকার সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। তাই দেখা যায় কোনো কোনো বছর খিরা চাষিরা সর্বাধিক লাভের মুখ দেখে থাকলেও হঠাত্ কোনো বছর লোকসানেরও শিকার হন। সেই মোতাবেক চলতি বছর খিরা চাষিদের দুর্ভাগ্যের বছর হিসাবেই ধরা হচ্ছে।
জমি লিজসহ চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা খিরা চাষে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। অথচ সেই জমি থেকে খিরা বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এখন প্রতি বিঘায় লোকসান গুণতে হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। গত বছর প্রতি বস্তা খিরা বিক্রি হয়েছে তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকায়। অথচ এ বছর সেই বস্তা ভর্তি খিরা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০ টাকা থেকে ৯০ টাকায়। উল্লেখ্য, যে প্রান্তিক চাষিদের বেশিরভাগই ধার দেনা করে খির চাষ করেছিলেন। এখন অবস্থা এমনই যে, না পারছেন দোকানের বাকি শোধ করতে, না পারছেন মহাজনের ধার দেনা শোধ করতে। এ অবস্থায় কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের হতাশাগ্রস্ত প্রান্তিক খিরা চাষিদের কৃষি ভর্তুকিসহ বিনা সুদে কৃষিঋণ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকষণ করছি।
সৌরভ সোহরাব,
আয়েশ, সিংড়া, নাটোর।