প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না :অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৮
বাজেটের শুরুতে দেয়া প্রবৃদ্ধিসহ আমদানি, রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। এসময় তিনি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বলেন, আমরা লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো না। গত অর্থবছরের মতো এ অর্থবছর শেষেও প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৬ দশমিক ৪ এর আশে পাশেই থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিবছরই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছি। কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য আসছে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ খুব বেশি বাড়বে না। এটাই হবে পদ্মার জন্য ত্যাগ স্বীকার। গত বারের মতো আগামী বাজেটেও বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং যোগাযোগ খাতকেও অগ্রধিকার দেয়া হবে। আমাদের আমদানি অনেক কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব পরিস্থিতির জন্য রফতানিও কমে গেছে। এ দুটিরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে না। আগামী বাজেটে আমদানি ও রফতানির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হবে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার যোগান দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ১শ’ কোটি ডলারের সার্বভৌম বন্ড ছাড়া হবে। বিগত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনেতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী এখনই এ ধরনের বন্ড ছাড়ার উপযুক্ত সময়। শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো সার্বভৌম বন্ড ছেড়েছে। অর্থমন্ত্রী আরো জানান, দেশের বিদ্যুত্ খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তাতে ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে দেশে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব হবে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে খুলনায় একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র উত্পাদনে যেতে পারবে। আগামী জুন মাসে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ (ভারত থেকে) আমদানি করা সম্ভব হবে। ভুটানের সাথেও বিদ্যুত্ আমদানির জন্য আলোচনা চলছে। তবে কয়লা খাতে যে লক্ষ্য নেয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। খুলনার কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য অভ্যন্তরীণ যোগান থেকে কয়লা যোগান দেয়া সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানি করা হবে।
এর আগে অর্থমন্ত্রী সফররত ভিয়েতনামের প্রতিনিধি দলের সাথে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) দুই দিনব্যাপী বৈঠকের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ইআরডি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম দুপক্ষই রজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, কৃষি, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী ভু হাই হোয়াং, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত নগুয়েন কোয়াং তু, ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক লি কুয়ক হাং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে যৌথ কমিশনের ১ম সভা ২০০৬ সালে হ্যানয় এ অনুষ্ঠিত হয়। গত দুইদিন ঢাকায় দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। আগামী ২০১৪ সালে সুবিধাজনক সময়ে হ্যানয়ে ৩য় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।