গণতন্ত্র হত্যায় এক কাতারে বিএনপি জামায়াত হেফাজত
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৯
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গণতন্ত্র হত্যা করার জন্য বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতে ইসলাম এক কাতারে সামিল হয়েছে। এদের কাছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পতাকা, শহীদ মিনার কোন কিছুই নিরাপদ নয়। মূলত বিএনপি-জামায়াতের কোমর ভেঙ্গে যাওয়ায় তারা হেফাজতকে সামনে দিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকদের চাপে পড়ে হেফাজত হরতালও দিয়েছে। কারণ সময়সীমা বেঁধে দেয়ার পরও হরতাল দেয়ার কোন যৌক্তিকতা জাতি খুঁজে পায়নি।
গতকাল রবিবার বিকালে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বগুড়া, নাটোর, দিনাজপুর, রংপুর, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর উপর অতিসমপ্রতি বিএনপি-জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত, নিষ্ঠুর আক্রমণে হতাহতের ঘটনা ও অব্যাহত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, ধ্বংসাত্মক, গণতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ঢাকায় ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের পূর্বপ্রান্তে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত গণতন্ত্রের শত্রু। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে তারা এক কাতারে সামিল। এদের হাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই, নারীদেরও নিরাপত্তা নেই। আগামীকালকের হেফাজতের হরতাল প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, আগামীকাল কোন হরতাল হবে না। মানুষ এ হরতাল মানবে না। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, হেফাজতের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা ঢুকে পড়েছে। এ কারণে তাদের চরিত্র, আকারে ভিন্নতা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এ বিচার হবেই। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিএনপি-জামায়াতের কোমর ভেঙ্গে গেছে। এ কারণে তারা হেফাজতকে সামনে দিয়েছে। ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাজমুল করিম টিংকুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি রওশন জাহান সাথী এমপি, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার এমপি, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএ সিকদার, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসিত বরণ রায়, জাসদের শিরিন আক্তার প্রমুখ। রাজধানীর তিনটি স্থানের মধ্যে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও ডেমরার মৃধা বাড়ি মাঠে দুটি বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে জনগণের কাছে দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করা হবে না। এ বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আপনারা তো একবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইলেন না। এসময় তিনি হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে নারী সাংবাদিকসহ সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানান। জাসদের সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এই হুজুররা আস্তিক ও নাস্তিকের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছেন। ভাষা আন্দোলনের সময়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই ধরনের লোকেরা ‘ইসলাম গেল’ ‘ইসলাম গেল’ বলে চিত্কার করেছিলেন।’
জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশে গভীর যড়ষন্ত্র শুরু করেছে। তারই অংশ হিসাবে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ। ঢাকা ১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণআজাদী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা খলিলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা সাঈদা তারেক দিপ্তী, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কামরুল আহসান, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান মাইকেল প্রমুখ।
ডেমরার মৃধাবাড়িতে ১৪ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে নারীদের ঘরের বাইরে না যেতে হেফাজতের দাবির তীব্র সমালোচনা করে মেনন বলেন, তারা যদি ঘরের বাইরে যেতে না পারে তাহলে দেশের ৩০ লাখ নারী পোষাক শ্রমিকের কি হবে? ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহতাব উদ্দিন, ন্যাপের (মো.) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় ১৪ দলের নেতারা।