শ্রমিক ধর্মঘটে বহির্নোঙরে পণ্যবাহী জাহাজের ভিড়

বহির্নোঙ্গরে আমদানি করা পণ্য নিয়ে জাহাজের বহর দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৩০টি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য নোঙ্গর করে আছে। গত ৪ দিনেও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি উভয় পক্ষ। গতকাল রবিবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। ফলে ধর্মঘটের কারণে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। তাদের ব্যাংক ঋণের বিপুল টাকা ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রসঙ্গে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বৈঠকে লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা শ্রমিকদের দাবি মেনে না নেয়ায় সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। আজ সোমবার দুপুরে পুনরায় বৈঠক ডাকা হয়েছে।’ শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, পণ্য খালাস না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যাংক ঋণের সুদ দিতে হচ্ছে। আমি উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে বলেছি। বন্দর সূত্র জানায়, আমদানি করা পণ্য নিয়ে খালাসের জন্য বহির্নোঙ্গরে গতকাল পর্যন্ত ৩০টি জাহাজ অপেক্ষা করছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ২০ শতাংশ বর্ধিত ভাতা বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে। এর ফলে বহির্নোঙ্গরে নোঙ্গর করা জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। সূত্র জানায়, বহির্নোঙ্গরে নোঙ্গর করা জাহাজগুলোতে রয়েছে সিমেন্ট কাঁচামাল, সার, গম, ডাল, লবণ, এসিআই কয়েল, সোডা ইত্যাদি। বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, লাইটারেজ শ্রমিকদের কর্ম বিরতির কারণে বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলেও বন্দরের জেটিগুলোতে পণ্য খালাস চলছে। জাহাজ মালিক সমিতি জানায়, বর্তমানে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ লাইটারেজ জাহাজ পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি জাহাজ মাসে একটির বেশি ভাড়া পায় না। এতে লোকসানে দিতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক কারখানা মালিকের পণ্য পরিবহনের জন্য নিজস্ব জাহাজ রয়েছে। তাদের ভাড়া জাহাজের প্রয়োজন হয় না। এমতাবস্থায় শ্রমিকদের ভাড়া বাড়ানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আজ সোমবার থেকে টানা তিন দিনের হরতাল শুরু হচ্ছে। এ সময় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকে। দাবি নিয়ে লাইটারেজ জাহাজ মালিক ও শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। মাঝিরঘাট এলাকায় ১৬টি ঘাট রয়েছে। গুদাম ও ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক জানান, লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মবিরতির কারণে পণ্য পরিবহন না করায় ঘাট শ্রমিকরা পণ্য খালাস করতে পারছে না।