রাজনৈতিক অস্থিরতা :ক্রেতাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টায় বিজিএমইএ

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের তৈরি পোশাক খাতে অর্ডার দিতে ভরসা পাচ্ছে না বিদেশি ক্রেতারা। তারা চায় যথাসময়ে (লিড টাইমে) পণ্যের সরবরাহ। সময়মতো সরবরাহ না পাওয়ায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয় আদেশ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহের ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে নানা চেষ্টা চালাচ্ছে তৈরি পোশাক উত্পাদনকারীদের সংগঠন বিজিএমইএ। শিগগিরই ক্রেতাদের সাথে বৈঠক করে তাদের আশ্বস্ত করতে চায় বিজিএমইএ। এদিকে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কী পরিমাণ অর্ডার প্রকৃত অর্থে বাতিল হয়েছে—বিজিএমইএর কাছে তার হিসাব দিতে শুরু করেছেন মালিকরা। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চলমান পরিস্থিতিতে যথাসময়ে পণ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা চায়। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএর সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ দেখিয়ে সংগঠনটির সভাপতি আতিকুল ইসলামের কাছে সমপ্রতি চিঠি পাঠিয়েছে একাধিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। বিজিএমইএ-ও তাদের সাথে শিগগিরই বৈঠক করতে আগ্রহী। গতকাল রবিবার বিজিএমইএ সভাপতি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা তাদের সাথে বৈঠক করে নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, চলমান অস্থিরতার মধ্যেও আমরা লিড টাইমে তাদের পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম। সরকার যথাসময়ে পণ্য সরবরাহে আমাদের সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, বিজিএমইএতে একটি সেল গঠন করা হবে। যথাসময়ে পণ্য পরিবহনে এই সেল কাজ করবে। সেই সাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করবে এই সেল। বৈঠকের দিনক্ষণ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সহসাই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘সমপ্রতি এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হরতালে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সহায়তা দেয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’ তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করেন তিনি। এদিকে আজ থেকে আবার শুরু হচ্ছে তিন দিনের হরতাল। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা চাই আমদানি-রফতানির সাথে জড়িত সব কার্যক্রম হরতালের আওতামুক্ত রাখা হোক।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদের অর্থনীতি চালাতে হবে। সুতরাং অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া ঠিক হবে না।’ এদিকে সামপ্রতিক সময়ে হরতাল ও অবরোধের কারণে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব কষতে শুরু করেছেন গার্মেন্টস রপ্তানিকারকরা। ইতিমধ্যে ১৫টি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান তাদের ক্ষয়ক্ষতির একটি হিসাব বিজিএমইএর কাছে দিয়েছে। এতে দেখা যায়, সামপ্রতিক হরতাল অবরোধে এই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৮ কোটি টাকার অর্ডার বাতিল হয়েছে। দেরিতে পণ্য প্রেরণের জন্য ক্রেতাকে ডিসকাউন্ট দিতে হয়েছে ৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিমানে পণ্য পাঠাতে হয়েছে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার। ৬০ কোটি টাকার পণ্য যথাসময়ে জাহাজীকরণ করা যায়নি। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি হয়েছে সোয়া ৭ কোটি টাকা। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, আরো অনেক প্রতিষ্ঠান হিসাব প্রস্তুত করছে। শিগগিরই তারা এ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংগঠনটির কাছে পাঠাবে। তবে বিজিএমইএ’র একটি সূত্র জানিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে অর্ডার বাতিল হওয়ার তথ্য দিতে চাচ্ছেন না। এদিকে আগামী জুলাই পর্যন্ত অর্ডার পাওয়া পণ্য ক্রেতার কাছে পাঠাতে হবে নভেম্বর নাগাদ। কিন্তু পুরো সময়টি অস্থিরতার আশংকা করছেন সরবরাহকারী ও আমদানিকারক উভয়েই। এই আশংকায় ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে ইতিমধ্যে অর্ডার সরিয়ে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় দিতে শুরু করেছেন। এই সময়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্রয় আদেশের অন্তত ৩০ শতাংশ হারাতে হবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি। আতিকুল ইসলাম বলেন, চলমান ও ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক অস্থিরতার আশংকায় ক্রেতারা উদ্বিগ্ন। যথাসময়ে পণ্য পাওয়ার স্বার্থে তারা অন্য দেশে বেশি দামে অর্ডার দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তারা মুনাফায় কিছুটা ছাড় দেবে।