উেস কর কমানোর প্রস্তাব রপ্তানিকারকদের

রপ্তানির উপর উেস কর বিদ্যমান দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে রপ্তানিকারকরা। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। গার্মেন্টস উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইএবি’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী উেসর কর কমানোর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। তবে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলেন, কাঁচামাল খরচ বাদ দিয়ে ‘কাটিং ও মেকিং’ খরচের উপর কর নির্ধারণ করা হোক। এছাড়া রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা করমুক্ত রাখা, নতুন শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ বরাদ্দ রাখা, শ্রমিকদের ডরমিটরি নির্মানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহায়ণ বিশেষ ফান্ড হতে ১ শতাংশ সুদে ঋন দান, রপ্তানিমূখী শিল্প মূল্য সংযোজন করমু্ক্ত হওয়ায় ব্যাংক সার্ভিস চার্জ, ইন্সপেকশন ফি, কুরিয়ার সার্ভিস চার্জ, ফ্যাক্টরি কমপ্লায়েন্স ও অডিট চার্জ-এর বিপরীতে ভ্যাট মওকুফ, বন্ড লাইসেন্স নবায়ন বিদ্যমান ২ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর করা, প্রতি বছরের পরিবর্তে ২ বছর পর পর অডিট করা, ইপিজেড-বহির্ভূত রপ্তানীমূখী শিল্পে ইপিজেড এর ন্যায় কর অবকাশ-সহ সকল সুবিধা প্রদান করা, বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) যন্ত্রপাতি আমদানীতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সুদ নির্ধারনসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়। গতকাল কাগজ, মুদ্রণ, প্রকাশনা, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন এবং বন্ড সংক্রান্ত রপ্তানি খাতের (পোশাক, নিটওয়্যার, কম্পোজিট ও প্যাকেজিং) সাথে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ উত্পাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হারুন অর রশিদ, এডভারটাইজিং এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ভরসা, পাঠ্য পুস্তক মুদ্রণ ও বিপণন সমিতি, ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। তারা স্ব স্ব সংগঠনের পক্ষে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বাজেটে ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় তিনি ব্যবসায়ীদের সহায়তা চান।