দেশের বিভিন্নস্থানে হরতাল পালন
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৯
হেফাজতে ইসলামের আহ্বানে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতালের পক্ষে বিপক্ষে মিছিল, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। খবর আমাদের অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
খুলনা: আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোমবার বিভাগীয় ও শিল্পনগরী খুলনায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে নগরীর ডাকবাংলোর মোড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের দিকে বয়রা এলাকা থেকে হেফাজতের কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া দুই-একটি স্থানে পিকেটার দেখা-গেলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতাল চলাকালে নগরীর স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ব্যাংক, বীমা ও অফিস-আদালতের প্রধান ফটক বন্ধ রেখে লেনদেন হলেও উপস্থিতি ছিল কম। এদিকে হরতাল চলাকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। নগরীর সড়কগুলোতে রিকশা ও ইজিবাইকসহ হালকা পরিবহনও কম চলাচল করেছে। তবে খুলনা রেল স্টেশন থেকে যথারীতি ট্রেন গন্তব্যস্থলের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজশাহী: সোমবার রাজশাহীতে হেফাজতের হরতাল ঢিলেঢালা ও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। ভারি যানবাহন চলাচল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এছাড়া ট্রেন ও হালকা যানবাহন চলাচলসহ জনজীবন প্রায় স্বাভাবিক ছিল। ভোরে কাটাখালিতে বিএনপি কর্মীরা সড়ক অবরোধ ও একটি ট্রাক ভাংচুর করেছে। সকাল ৭টায় মালোপাড়া দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে হেফাজতের রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুস ছামাদের নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল মনিচত্বর, সাহেববাজার, আলুপট্টি, তালাইমারী, বাসটার্মিনাল, রেলস্টেশন হয়ে শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন জানান, ‘হেফাজত নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাইলে পুলিশ অনুমিত দেয়। তবে নাশকতা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব প্রস্তুত ছিল। বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, হরতালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেট : গতকাল হেফাজতে ইসলামের ডাকে সিলেটে হরতাল পালিত হয়। কোথাও কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি। অন্যদিনের হরতালে রিকশা চলাচল করলেও গতকাল ছিল সম্পূর্ণ বন্ধ। রাজপথ দখলে নেয় হেফাজতের কর্মীরা। এ হরতালকে অনেকে অভূতপূর্ব, কড়া হরতাল হিসাবে মন্তব্য করেছেন। দোকান-পাট, বিপণী বিতান সব বন্ধ ছিল সম্পূর্ণভাবে। সিলেট থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবরোধের কারণে বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। নগরীতে র্যাব-৯ টহল দেয়। পুলিশও সতর্কাবস্থায় ছিল ।
এদিকে কোর্ট পয়েন্টে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বিশাল আল্পনাও আঁকা হয়। নগরীতে হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আম্বরখানা থেকে একটি মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্র মজলিস। এছাড়া হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ছাত্র জমিতসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনভর নগরীতে মিছিল বের করা হয়। মূল রাস্তার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায়ও হেফাজতের কর্মীরা পিকেটিং করে।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ): পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও পিকেটিং করেছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়ায় সকাল থেকেই রাস্তার উপর মিছিল ও জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েন। পরে তারা রাস্তার উপর জোহরের নামাজ আদায় করেন। মিছিলের নেতৃত্ব দেন ও জোহরের নামাজের ইমামতি করেন হেফাজতে ইসলামের মুন্সীগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক পীর এ কামেল আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুর পীর সাহেব। এসময় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে কোন যানবাহন চলাচল করেনি।
নারায়ণগঞ্জ:সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ ছিল হেফাজতে ইসলামের দখলে। তারা দখল করে নিয়েছিল শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও। এছাড়া শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনেও ছিল হেফাজতে ইসলামের লোকজন। হরতালে বন্ধ ছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন ও সকল প্রকার যান চলাচল। শহরে চলতে দেয়া হয়নি কোন রিকশা এমনকি বাইসাইকেলও।
লালমোহন (ভোলা): লালমোহন রায়চাঁদে হেফাজতে ইসলাম রাস্তায় গাছ ফেলে হরতাল পালন করে। এ সময় মুসল্লিদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে লালমোহন পৌর শহরে হরতালের সমর্থনে হেফাজতে ইসলামের মিছিলে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ সময় সাংবাদিকসহ আহত হয় অন্তত ১০ জন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজিম হাওলাদার জানান, আমাদের কেউ মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়নি। সাংবাদিক শহিদের উপর হামলার ঘটনাও আমরা জানি না। এদিকে সাংবাদিক মো. শহিদুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লালমোহন প্রেসক্লাব ও লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটি।
টঙ্গী: টঙ্গীতে ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় হেফাজতে ইসলামীর একটি মিছিল বের হলে বিদ্যুত্ অফিসের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রেজাউলের নেতৃত্বে মিছিলে হামলা চালানো হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা হেফাজতে ইসলামীর ৫ সদস্যকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ওই এলাকা থেকে একটি পরিত্যক্ত ককটেলও উদ্ধার করা হয়।
গফরগাঁও:সকালে গফরগাঁও পৌরশহরে স্থানীয় এমপি ক্যাপ্টেন (অবঃ) গিয়াস উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগ মিছিল করেছে। পৌরশহরের জামতলা মোড়স্থ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় এমপি ক্যাপ্টেন (অবঃ) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল উদ্দিন আকন্দ, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হালিম মানিক, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা মীর আকবর হোসেন, মোখলেছুর রহমান, এসএম শফিক, যুবলীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন সাদেক, ছাত্রলীগ নেতা খোকন আহম্মেদ, সোয়েব প্রমুখ।
ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই হেফাজতের কর্মীরা পৌর শহর, গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া ও ধারনবাজারে হরতালের সমর্থনে খণ্ড-খণ্ড মিছিল করেছে। হরতালের সময় উপজেলা সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও পয়েন্টে পিকেটিং করতে দেখা গেছে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের। শহরের দোকানপাট খোলা ছিল না। রিকশাসহ ছোট-ছোট যানবাহনও চলতে দেখা যায়নি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা খোলা ছিল। হরতাল চলাকালে মাওলানা আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে পৌর শহরে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা):দুর্গাপুর উপজেলায় হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে দুর্গাপুর পৌরসভার ৭টি পয়েন্টে জায়নামাজ তসবিহসহ হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা অবস্থান নেন। পরবর্তীতে বাদ জোহর প্রেসক্লাব মোড়ে মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে বাঞ্জাইল বাজারে আল্লামা জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হয়।
লক্ষ্মীপুর: সকাল থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা জেলা শহরে হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এদিকে সকালে হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীরা শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকা ও রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কে রাখালিয়ায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া মান্দারী, দালাল বাজার, চন্দ্রগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। হরতাল চলাকালিন জেলা শহর থেকে কোন যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। নিরাপত্তার জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ধামইরহাট (নওগাঁ):ধামইরহাট উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। এ সময় মাঠে কিছু হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের দেখা গেলেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার দূরপাল্লার বাস চলাচল করেনি। অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল ছিল না। দোকানপাট বন্ধ ছিল।
সিংড়া (নাটোর): নাটোরের সিংড়ায় হেফাজতে ইসলাম একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নীরব ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ উপজেলা শাখার হরতাল সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা কোর্ট চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, হাফেজ মাওলানা মাহমুদ হাসান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মুফতি আলী হাসান ও হাফেজ জিয়াউল হক প্রমুখ।
হোমনা:কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় হরতাল পালিত হয়েছে। ভোর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে হেফাজতে ইসলামের সমর্থক ও সাধারণ মুসল্লি¬রা অবস্থান নেয়। হরতালের শুরুতে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডের তিন রাস্তা মোড়ে উপজেলা হেফাজতে ইসলাম সভাপতি মুফতি আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে হাতে তসবীহ ও জায়নামাজ নিয়ে রাস্তায় বসে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে উপজেলা হেফাজত ইসলামের নেতা-কর্মীরা।
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ): ফজরের নামাজের পর থেকেই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে মুসল্লিরা হরতাল ও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদান করতে থাকে। সকাল সাড়ে ৮টায় মুসল্লিরা তসবীহ ও জায়নামাজ হাতে নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান হতে মুসল্লিদের বিশাল একটি মিছিল উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বরগুনা (দক্ষিণ):বরগুনায় ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়। বরগুনা জেলা শহরের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকে। দূরপাল্লার কোন যানবাহন ছেড়ে না গেলেও আন্তঃজেলা সড়ক ও লঞ্চ যোগাযোগ চালু থাকে। হরতালের সমর্থনে কোথাও পিকেটিং বা কোন মিছিল বা সমাবেশ দেখা যায়নি। দুপুরে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা শহরে হরতাল বিরোধী পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তবে জেলার পাথরঘাটা উপজেলায় সোমবার হরতালের সমর্থনে ঢাকা-পাথরঘাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা। ভোর থেকে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত মাছেরখাল বাজার এলাকায় এ অবরোধে অবস্থান নেন দলের শতাধিক নেতা-কর্মী।
ফুলপুর (ময়মনসিংহ): ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পয়ারী সড়কে একটি টেম্পো ভাংচুরের খরব পাওয়া গেছে। সকাল থেকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট-শেরপুর মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে সড়কে বসে ও শেরপুর সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয় তারা। হরতালের সময় দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। রিকসা, টোম্পো, অটো রিকশা, ট্রলি, ভটভটি, সাইকেল, মোটর সাইকেল অন্যান্য হরতালের চেয়ে চলাচল একেবারে কম।
মেলান্দহ (জামালপুর): সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হরতাল সমর্থিত কতিপয় যুবক থানা রোডে বেঞ্চ ফেলে বসে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে বেঞ্চগুলো ভেঙ্গে ফেলে। এ খবরটি চার দিকে ছড়িয়ে পড়লে হেফাজতের কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মেলান্দহ বাজারে সমবেত হতে থাকে। বিভিন্নস্থান থেকে আসার পথে হেফাজতের কর্মীদের বাধা প্রদান করা হয়। শ্যামপুর বাজার বিশ্বরোডে টায়ার জালিয়ে অবরোধ করে। এসময় একটি অটোরিকসা ভাংচুর করা হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ বাইতুন নূর জামে মসজিদে সমবেত হবার ঘোষণা দেন।
মেহেরপুর : হেফাজতে ইসলামের মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বেলা সাড়ে ১১টার সময় মেহেরপুর হোটেলবাজার মোড়ে সংগঠনের সভাপতি হেমায়েতুল্লাহর নেতৃত্বে সমাবেশ শেষে শহরে বিক্ষোভ বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সাতক্ষীরা:সকাল থেকে সাতক্ষীরায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। দুপুরে সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে সাতক্ষীরায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে তারা। সংগঠনের সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক মাওলানা মনিরুল হকের নেতৃত্বে শহরের বাঙ্গালের মোড় মাদ্রাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের বাঙ্গালের মোড়ে যেয়ে শেষ হয়। সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল¬ার কোন পরিবহন ছেড়ে যায়নি। সাতক্ষীরা ভোমরা স্থল বন্দরের আমদানি রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও নাশকতার ভয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক অন্যান্য দিনের তুলনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করছে খুবই কম সংখ্যক। ফলে ব্যবসায়ীরা টানা তিন দিনের হরতালে তাদের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এদিকে নাশকতা এড়াতে শহরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চাঁদপুরে হরতাল পালন হয়নি
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরে হেফাজতে ইসলামের আহবানে গতকাল সোমবার কোন হরতাল পালিত হয়নি। সর্বত্র ছিল জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে যথারীতি কার্যক্রম চলেছে। ট্রেন, লঞ্চ যথারীতি আসা-যাওয়া করেছে। পুলিশ জামায়াত সন্দেহে ৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে। শহরের প্রায় প্রতিটি বিপণী বিতান ও দোকান-পাট খোলা ছিল। হরতাল শহরের কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। হরতাল আহবানকারীদের আজ রাস্তায় দেখা যায়নি।