সিরিয়া ফেরত আইএস জঙ্গি ঢাকায় গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসের হয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে যাওয়া এক জঙ্গি ঢাকায় আসার পর তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশানাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসি। সিরিয়া ফেরত ওই জঙ্গির নাম মুতাজ আব্দুল মজিদ কফিল উদ্দিন বেপারি ওরফে মুতাজ (৩৩)। সৌদি আরব থেকে সে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। গত রবিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম খান গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘সৌদি আরব থেকে এক বাংলাদেশি সিরিয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে সে ঢাকায় আসার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা শওকত আকবর বলেন, ‘মহানগর হাকিম ইয়াসমীনের আদালতে মুতাজকে সোপর্দ করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মুতাজ নামে ওই ব্যক্তি সৌদি আরব থেকে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে সিরিয়া গিয়েছিল।’ উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে দায়ের হওয়া ওই মামলায় মুতাজ ছাড়াও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই আশরাফুল হক বাবু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এজাহারে মুতাজের সিরিয়ায় গিয়ে যুদ্ধ করা এবং ঢাকায় এসে সরকার উত্খাতসহ নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।’

আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়া সিরিয়া ফেরত মুতাজ নামে যে জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসে। দেশে ঢুকে সে বাংলাদেশ সরকার উত্খাত করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাশকতার পরিকল্পনা করে আসছিল। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান,  গ্রেফতারকৃত মুতাজ বাংলা বলতে পারে না। সে ইংরেজি ও আররিতে কথা বলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নব্য জেএমবির ভাবধারায় বিশ্বাসী বলে স্বীকার করেছে। সে নব্য জেএমবির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে উত্তরা এলাকায় বৈঠক করছিল। তারা নব্য জেএমবির মাধ্যমে সরকারকে উত্খাত করে খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও নানারকম নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলেও স্বীকার করেছে।