তাজরীনের অগ্নিকাণ্ড
ক্ষতিপূরণের চাইতে আমেরিকা যাচ্ছে আহত শ্রমিক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫০
তাজরীন গার্মেন্টস কারখানায় হতাহতদের যথাযথ ক্ষয়ক্ষতি আদায়ের বিষয়টিকে আরো জোরদার করতে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সুমি আবেদিন নামে আহতদের একজন প্রতিনিধি। সেখানে শ্রম অধিকার কর্মীদের সাথে তিনি যোগ দেবেন। চলতি সপ্তাহেই তার যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শ্রম অধিকার কর্মীসহ তারা ওয়ালমার্ট ও ডিজনি’র প্রধান দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে তাদের অধিকারের কথা জানাবেন। বিখ্যাত এই সব ব্র্যান্ডের পোশাক যে কতটা নিম্নমানের কাজের পরিবেশের মধ্যে হচ্ছে সেই বিষয়েও প্রচারণা চালাবেন। ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সুমি’র বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘আমি আমেরিকা যাচ্ছি বায়ারদের (ক্রেতা) কাছ থেকে হতাহত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং কারখানার নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে। পোশাক তৈরি করতে গিয়ে কেউ মারা যেতে পারে না।’
গত নভেম্বর মাসে তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০০ জন। এই ঘটনার পর সরকার ও বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেয়া হলেও ওয়ালমার্টসহ বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় নি। অথচ তাজরীনে ঐ সময় শ্রমিকরা ওয়ালমার্টসহ বড় কয়েকটি ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করছিলেন।
ওয়ালমার্টের মুখপাত্র অবশ্য ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তিনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, তারা এখন বাংলাদেশের গার্মেন্ট ও টেক্সটাইল শিল্পে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কিছু কর্মসূচিতে অর্থ বিনিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আহত হওয়া ২৪ বছর বয়সী শ্রমিক সুমি বলেন, সেই রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর অন্যান্য শ্রমিকরা ৪র্থ তলার একটি জানালার অংশ বিশেষ ভেঙ্গে ফেলে। তিনি ওই ফাঁক গলে নিচে লাফ দেন। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙ্গে যায়। তাজরীনে মাসে তিনি ৫৬ মার্কিন ডলার বেতন পেতেন (প্রায় ৪৫০০ টাকা)। দুর্ঘটনার পর তিনি ১৭৫ ডলার এবং তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠনের কাছ থেকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩০০ ডলার।
এদিকে তাজরীনে যেসব বিখ্যাত ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া গেছে এরকম প্রায় এক ডজন কোম্পানিকে একটি সভায় ডেকেছে জেনেভাভিত্তিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রিঅল। তাদের উদ্দেশ্য সবাইকে একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা। তবে এখন পর্যন্ত ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে খুব একটি সাড়া মেলেনি।