সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের জীবনাবসান

লৌহ মানবী হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার আর নেই। তিনি কয়েক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ৮৭ বছর বয়সে গতকাল সোমবার সকালে তিনি পরলোকগমন করেন। মার্গারেট থ্যাচারের মুখপাত্র লর্ড বেল জানান, মার্ক এবং ক্যারোল থ্যাচার জানিয়েছেন, তাদের মা ব্যারোনেস মার্গারেট থ্যাচার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে সকালে মারা গেছেন। খবর বিবিসির। মার্গারেট থ্যাচারের জন্ম ১৯২৫ সালে। তার বাবা ছিলেন একজন দোকান মালিক, ধর্ম প্রচারক ও স্থানীয় কাউন্সিলর। ১৯৭৯-১৯৯০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ব্রিটেনের ইতিহাসে একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ১৯৭৯, ১৯৮৩ এবং ১৯৮৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হন। যেভাবে শক্ত হাতে, বিভিন্ন বাধা অগ্রাহ্য করে তিনি ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক সংস্কার এনেছিলেন, তার জন্য তিনি লৌহ মানবী পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ব্রিটেনের ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক অবস্থা পাল্টে দিয়েছিলেন। যুদ্ধোত্তর ব্রিটেনে তিনি বেসরকারিকরণ ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। এডওয়ার্ড হিথ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। মার্গারেট থ্যাচার কখনো ভাবেননি কোন নারী ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় বিস্ময়করভাবে তিনি হারিয়ে দিয়েছিলেন হিথকে। এরপর জেমস কালাহান সরকার বিদায় নিলে তিনিই হন ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তার সময়েই আইন করা হয়, ট্রেড ইউনিয়নের ধর্মঘট করতে হলে ভোট করে সদস্যের অনুমতি নিতে হবে। কাউন্সিলের ভাড়াটেদের বাড়ি ক্রয়ের সুযোগ দেয়া হয় তার সময়েই। মার্গারেট থ্যাচারের সময়ে প্রথম কয়েক বছরে ব্রিটেনে বেকারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ লাখ। কিন্তু নীতি পরিবর্তন করেননি থ্যাচার। তিনি এক সময় ব্রিটেনের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীত্বে পরিণত হয়েছিলেন। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি আবার নির্বাচনে জয়লাভ করে। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয় বার দলকে জয় এনে দেন। কিন্তু ইউরোপের ব্যাপারে তার নীতি নিয়ে তার নিজ দল ও মন্ত্রিসভায় অসন্তোষ দেখা দেয়। অবশেষে দলের নেতৃত্বে মাইকেল হেজেনটাইন চ্যালেঞ্জ করলে মার্গারেট থ্যাচার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অনেকদিন পর থ্যাচার তার এই তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “রাজনীতিতে থাকলে আপনার পিঠে যে কেউ ছুরি মারতে পারে এমন ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। আমি কখনোই ক্ষমা করবো না যে, পার্লামেন্টের মাধ্যমে আমাকে বিদায় নিতে দেয়া হয়নি। এটি আমি কোনদিনই ভুলবো না।” মার্গারেট থ্যাচার ১৯৫৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন। মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যারেন। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে ক্যামেরন স্পেন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। শেখ হাসিনার শোক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোক বার্তায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ব রাজনীতিতে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যবর্গ এবং তার শুভানুধ্যায়ী ও ব্রিটিশ জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। মার্গারেট থ্যাচারে মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধরাণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।