টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে জনশক্তি
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৭
টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে রপ্তানি হচ্ছে জনশক্তি। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য সরকারিভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্যদের ওই ভিসায় দেশটিতে পাঠানো হচ্ছে। বায়রার সদস্য বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি গত ১৫ দিনে অন্তত সাড়ে তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। এসব এজেন্সি ঢাকাস্থ মালয়েশীয় দূতাবাস থেকে আরো ১০ হাজার টুরিস্ট ভিসা নিয়েছে।
সমপ্রতি টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে বলে ইমিগ্রেশন সূত্রও জানিয়েছে। এসব জনশক্তি মালয়েশিয়ায় প্রবেশের পর বিনাশর্তে কাজে যোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে সময়মত রপ্তানি করতে না পারায় জনশক্তির রপ্তানির কোটা হারাতে বসেছে সরকার।
বায়রা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বায়রার সদস্য বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশীয় দূতাবাসে আরো ১০ হাজার টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন জমা দিয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, অবৈধভাবে টুরিস্ট ভিসায় জনশক্তি পাঠানোর জন্য বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি বিভিন্ন সংস্থার কাছে ঘুষও দিচ্ছে।
টুরিস্ট ভিসায় জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপারে এসএস ইমিগ্রেশনের নাফিউল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিদিন ভিজিট ভিসায় ২০০ থেকে ২৫০ ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসায় আরো ২০-২২ জন যাচ্ছে। এদের অধিকাংশই কাজ করার উদ্দেশে যাচ্ছে। ভিসা, পাসপোর্ট ঠিক থাকায় পুলিশ সদস্যরা এই অবৈধ জনশক্তি রপ্তানি থামাতে বা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টাকারী এসব ব্যক্তির মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ সে দেশের বিমানবন্দরে আটকা পড়ছে। তাদেরকে বিমানবন্দরের ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হচ্ছে অথবা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে প্রতিদিনই মালয়েশিয়া থেকে এ ধরনের অবৈধ প্রবেশকারীদের মধ্য থেকে ২৫-৩০ জনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স বাকিদের ছেড়ে দিচ্ছে।
এদিকে ওসি ইমিগ্রেশন সিনিয়র এএসপি তানিয়া ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিদিন গড়ে আড়াই শ’ ব্যক্তি ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি শুনেছেন অন্যান্য সময়ের তুলনায় সমপ্রতি ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়ার হার বেড়েছে।
কর্মসংস্থানের উদ্দেশে টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় যাওয়া ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজন তাদের মালয়েশিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে পৌঁছে দেন। এরপর তাদের পাসপোর্ট এবং যাবতীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আটকে রাখে। অবৈধভাবে থেকে বিনা শর্তে অল্প পারিশ্রমিকে তাদের কাজ করতে হয়।