গণজাগরণ মঞ্চের আজ প্রতীকী লাঠি মিছিল
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৮
বিএনপির ডাকা আজ ও কালের হরতালের কারণে কর্মসূচি পরিবর্তন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। সারা দেশে ডাকা ছাত্র ধর্মঘট এবং গণঅবস্থানের পরিবর্তে প্রজন্ম চত্বরে আজ মঙ্গলবার প্রতীকী লাঠি মিছিল এবং কাল বুধবার একাত্তরের শহীদদের প্রতি লেখা চিঠি পাঠ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার হেফাজতে ইসলামের হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে শহীদ মিনার অভিমুখে পতাকা মিছিল করেছে মঞ্চ। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা সরকারের পক্ষে মেনে নেয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনরতরা।
গতকাল শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মিডিয়া সেলে সাংবাদিক সম্মেলনে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ এপ্রিল দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও ১০ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে গণ অবস্থানের আহ্বান করেছিলো গণজাগরণ মঞ্চ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম বিএনপি এবং যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামীসহ ১৮ দলীয় জোট হরতালের ডাক দেয়। এ হরতালের কারণে গণজাগরণ মঞ্চ তার পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির স্থলে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, আজ বিকাল চারটায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে ‘প্রতীকী লাঠি মিছিল’ বের হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে। আগামীকাল সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘বুকপকেটের চিঠিগুলো’ শীর্ষক একাত্তরের শহীদদের কাছে নতুন প্রজন্মের লেখা চিঠি পাঠ। ইমরান বলেন, ৬ এপ্রিল গণজাগরণ মঞ্চের উপর হামলার চেষ্টা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে লাঠি মিছিলটি শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হবে। আর গত ২০ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বানে সারাদেশে শহীদদের কাছে চিঠি লিখেছিলো নতুন প্রজন্ম। প্রতিটি চিঠিতে ফুটে উঠেছে হূদয়ের অপরূপ আবেগ আর অনির্বচনীয় চেতনার উদ্ধত ক্যানভাস। এ চিঠি থেকেই বাছাই করা কয়েকটি চিঠি পাঠ করা হবে বুধবার সন্ধ্যায়। পহেলা বৈশাখে বিকালে শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
হেফাজতে ইসলামের হরতাল প্রত্যাখ্যান করে গতকাল সকালে পতাকা মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিলের সামনে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত বিশাল আকৃতির একটি জাতীয় পতাকা বহন করেন তরুণরা। মিছিলটি শাহবাগ থেকে রূপসী বাংলা, টিএসসি হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেশের অগ্রগতি রুখতে চায়। জাতীয় উন্নতিকে আরো গতিশীল করতে রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করতে হবে, অবরোধ নয়। এমন কোনো বিধান করা যাবে না যাতে নারীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। নারীর অগ্রযাত্রায় যাতে কোনো বাধা না আসে সেজন্য দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম তাদের সমাবেশে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে। সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। হেফাজতের ১৩ দফা দাবির একটিও যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশে মধ্যযুগীয় শাসন ব্যবস্থা ও তালেবানি শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে।
মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা মারুফ রসুল বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ দেশ যতটুকু অগ্রসর হয়েছে তা নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রয়াসে হয়েছে। অথচ একটি গোষ্ঠী নারী-পুরুষের সমন্বিত এ প্রয়াসকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
পতাকা মিছিলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফসহ বিভিন্ন সংগঠনের যুব ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পতাকা মিছিল নিয়ে শাহবাগের মূলমঞ্চে ফিরে যান আন্দোলনরতরা। দেশের বিভিন্ন জেলায়ও জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল হয় বলে মঞ্চের সংগঠকরা জানিয়েছেন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার আজীবন কারাদণ্ড দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তরুণরা। সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিসহ ছয় দফা দাবিতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে গণজাগরণ মঞ্চ।