জয়া আহসান। বাংলাদেশের বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও মডেল। মডেলিং ও টিভি নাটকের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, গসিপ থাকুক না। মজাই লাগে। সেটা তো হতেই হবে। দেখি কী হয়। সময়ই বলবে। তবে যত দিন আরাম করে থাকা যায়। আঙুলে বাঁ হাতে ওই হাতকড়াটা এখনই পরতে চাই না। খবর আনন্দ বাজার পত্রিকার।
দিন কয়েক আগে নন্দনে মুক্তি পেয়েছে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় পরিচালিত আসন্ন ছবি ‘কণ্ঠ’র ট্রেলার। রিলিজের পর হাতে মাত্র ১০ মিনিট। বাংলাদেশ ফিরবেন জয়া আহসান। কণ্ঠ’র অভিনয়ে চরিত্র প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত একটা মানুষ। যার ল্যারিঙ্গস কেড়ে নিয়েছে এই ভয়াবহ রোগ। তাকে নতুন করে কথা বলতে শেখাই আমি। আসলে, যার সাউন্ড বক্সই নেই সে প্রথম থেকেই সেই স্ট্রাগলটা করছে। কিন্তু যার ল্যারিঙ্গস বা সাউন্ড বক্স আছে, সে যখন সেটা বাদ দিয়ে রেখে কথা বলে, তার চ্যালেঞ্জটা আলাদা।
আপনার তো সাউন্ড বক্স রয়েছে। কিন্তু ছবিতে ওই ভয়েজে কথা বললেন কী করে? এমন প্রশ্নে জয়া বলেন, খুবই কঠিন ছিল। চ্যালেঞ্জিং। আমার সাউন্ড বক্স থাকলেও সেটা বাদ দিয়ে কথা বলতে হয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম হবে কি না, কিন্তু পরে দেখলাম হচ্ছে। পরিচালকরা খুশি আমার কাজে। আমি ওই ভয়েসে কথা বলতে পেরেছি। বাকিটা তো দর্শক বলবে। এই ছবিতে কি ডাবিংটা বেশি কঠিন ছিল? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, না, সেটা বলব না। অভিনয়, ডাবিং দুটোই ডিফিকাল্ট ছিল। আসলে শুটিংয়ের অনেক দিন পরে তো ডাবিং হয়। তখন তো চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসি আমরা। তখন আবার নতুন করে চরিত্রে ঢুকে ডাবিং করাটা বেশ কঠিন ছিল।
সাউন্ড বক্স বাদ যাওয়ার পরও যারা কথা বলেন, তেমন মানুষদের সঙ্গে দেখা হয়েছে নিশ্চয়ই? এমন প্রশ্ন করতেই জয়া আহসান বলেন, হুম। এই ছবিটা করতে গিয়ে এমন মানুষদের মিট করলাম। সেটা আমার বড় পাওনা। লোকে এদের কথা শুনলে, ভূত বলে। জুজু বলে। কম্পিউটার কথা বলছে কি না, এ রকম বলে। আসলে সাধারণ মানুষের বোঝার কথাও নয়। আমি নিজেও প্রথমে বুঝতে পারিনি। তার পর দেখলাম লড়াই করলে আসলে জেতা যায়। সত্যিই ‘কণ্ঠ’র চরিত্রটা বেশ কঠিন ছিল। এক্সপ্রেসিভ। নর্মাল ভাষায় কথা বলছে না। আমি আবারও বলছি, সাউন্ড বক্স বাদ দিয়ে কথা বলা এত সহজ নয়। প্রথমে ভেবেছিলাম, হায় আল্লা, এটা কী করে করব? কাজটা করার সময় যদি না হয়? কী হবে তাহলে? ফাইনালি এটা ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
মেঘ জমেনি বলছেন— এ প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, এটা অন্যদের ক্ষেত্রে হতে পারে। আমার কখনো হয় না। আসলে ক্যামেরার সামনে তো একটা অন্য জোন। সেখানে অভিনেতারা সেলফিশ হয়। সেখানে কেউ ডিজঅনেস্ট থাকে না বলেই আমার বিশ্বাস। জয়া আহসানের ‘ফুড়ত’ এর কাজ চলছে। ‘বিউটি সার্কাস’ ঢাকাতে রিলিজ করবে। অভিনয় আর প্রযোজনা দুটোই করছেন, এবার পরিচালনা করবেন নাকি? এমন প্রশ্নে জয়া আহসান বলেন, না না। এটা হবে না। অভিনয় নিয়ে হাফ পাগল হয়ে আছি। আর পাগল হতে চাই না।