জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনের ব্যবস্থা বহাল রাখাই কাম্য

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমরা চাই জাতীয় স্বার্থে যে কোন মূল্যে দেশে নির্বাচনের ব্যবস্থা বহাল থাকুক। সকলের ভেবে দেখা দরকার যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা স্থায়ীভাবে কারও কাছে বহাল থাকে না। বর্তমানে দেশে যে কঠিন অবস্থা চলছে তা অব্যাহত থাকলে রাজনীতিতে অনভিপ্রেত কিছু ঘটে গেলে তা হবে গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ বিপদ। তিনি গতকাল সোমবার রাতে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ধাবড়ী বাজারে গণসমাবেশে আরো বলেন, আমাদের দেশে যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা ভাবেন না যে আগামীতে এ ক্ষমতা তাদের হাতে নাও থাকতে পারে। তাই তারা ভিন্নমত পোষণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে উপস্থিত করতেও কুণ্ঠা বোধ করেন না। এটা স্বাধীন দেশে কাম্য নয়। এসব কড়া পথের রাজনীতি নির্বাচনী পদ্ধতিকে অনিশ্চিত করে তোলে। তখন অনেকে যথা সময় নির্বাচন বা ভোট অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশয়গ্রস্ত হন এবং নির্বাচন দুরূহ বলে আশঙ্কা করেন। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজনীতিতে সংযম, ধৈর্য ও সহনশীলতার বিকল্প নাই। আমরা ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলাম। তখন ভিন্ন মতাবলম্বনকারীরা বলেছিলেন নিরপেক্ষ বলতে শুধু শিশু ও পাগল বোঝায়, অথচ আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আবারও অনেকে মাঠে নেমেছেন। বিরোধী অবস্থানে থেকে যে মনোভাব থাকে তা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে বদলে যায়- এই রাজনৈতিক মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের মত স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ ও সুষুম পথে ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবস্থা থাকা উচিত। এ পদ্ধতির অনুপস্থিতির সুযোগে বিশেষ শক্তি ভিন্ন পথে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবার জন্য কাঠখড় পোড়াবার চেষ্টা করছে। উস্কানি দিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করে বাংলাদেশকে একটি সামপ্রদায়িক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে যা মোটেই ভালো নয়। সকল ধর্মের মানুষকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির দেশ। এখানে শত শত বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করে আসছে। এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, সকল ধরনের লুটপাট, দুর্নীতি ও আত্মসাতের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। ঢাকায় ব্যাংকের টাকা লুট, শেয়ার বাজার কেলেংকারি, রাস্তা-ঘাট-সেতু নির্মাণে দুর্নীতি থেকে শুরু করে গ্রামের জিআর-টিআর-কাবিখার, আত্মসাত্-অপচয়ের বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এখন পৃথিবীর সব জায়গার মানুষ স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যা ঘটছে এটা খুব খারাপ লক্ষণ। এটা খুব ভালো লক্ষণ নয় এ কারণে যে, আমাদের দেশ দরিদ্র, সম্পদ কম। ধাবড়ী বাজারে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি (জেপি) আয়োজিত এ গণসমাবেশে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন কাঞ্চন সরদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, উপজেলা জেপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, জেপি’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ খসরু, শাহ আলম তালুকদার, খান মোঃ বাচ্চু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মন্টু, হারুন অর রশীদ, রাজু আহমেদ, জিন্নাত রফিক, জিয়াউল হাসান জুয়েল, আব্দুল কুদ্দুস সিকদার, ইউনিয়ন জেপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খান, আমিনুল ইসলাম, নয়ন সিকদার প্রমুখ। এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি, যুব সংহতি, ছাত্র সমাজের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাকির হোসেন নসু, আসাদুজ্জামান মিল্টন, মতিউর রহমান তালুকদার, শাহ আলম নসু, মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, জাফর আলী খান, নেপাল চন্দ্র দে প্রমুখ। বিকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বেকুটিয়া ফেরিঘাটে বনফুল ক্লাব চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এখানে আরো বক্তব্য রাখেন জেপি কেন্দ্রীয় নেতা হুমায়ুন কবির রাজু, চিড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, ইউপি সদস্য আব্দুল আলীম প্রমুখ। ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা কে এম ফজলুর রহমান জানান, গতকাল সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গাজীপুর লোধেরহাট বাজারে মতবিনিময় সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এইবার আমি ভাণ্ডারিয়ায় এসেছি সম্পূর্ণ একটা ভিন্ন লক্ষ্য, ভিন্ন উদ্দেশ্য, ভিন্ন কারণ নিয়ে। আর তা হল, বর্তমান সময়ে ভাণ্ডারিয়া কাউখালীর মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে। আমি এবার স্বরূপকাঠি হয়ে এসেছি। আমার জীবনের ২৭/২৮ বছর সবসময় ভাণ্ডারিয়ায় আসতাম তারপর এখান থেকে অন্য জায়গায়। দেশে নানা ধরনের উত্তেজনা-উত্তাপ ইত্যাদি সৃষ্টি হয়েছে তা অবশ্যই ভাববার বিষয়। কিন্তু আমাদের যা নিয়ে বেশি মাথা ব্যথা সেটা হল এই এলাকা যেন কোনভাবে ঐ সকল অপকাণ্ডের দ্বারা প্রভাবিত না হয়। আমরা ভিন্ন রাজনীতি করি। দলাদলি-মারামারি-কাটাকাটি-কোন্দল এগুলো নিয়ে আমি কখনও আলোচনা করি না। তিনি বলেন, কিন্তু একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করি সেটা হলো আমার ভাগে যেটা পাওনা সেটা কেউ যেন কোনভাবে কেটে নিতে না পারে। আমি অহংকারের সাথে এ কথা বলতে পারি, কারণ আপনারা ভাণ্ডারিয়ার মানুষ, কাউখালীর মানুষ, পটুয়াখালীর মানুষ, পাথর ঘাটার মানুষ সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন। প্রয়োজনের তাগিদে এক থাকতে হবে। বিগত ২৭/২৮ বছরে আমি ভাণ্ডারিয়ায় রাজনীতির আলোচনা করি নাই। কারণ এখানে ভিন্নদল আছে, ভিন্নমত আছে, ভিন্ন আদর্শ আছে। তাই আপনারা যদি দলমত পথ নির্বিশেষে এক থাকেন, তা হলে বাংলাদেশে এমন কোন সরকার আসতে পারবে না এবং জোরের সাথে বলতে চাই আসতে দেয়া হবে না, যারা ন্যায্য অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে পারে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শামসুল হক খন্দকার। বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, সমাজ সেবক ইউসুফ আলী আকন, প্রভাষক নূরুল হক, যুব সংহতি নেতা হুমায়ুন কবির বাদল সিকদার ও লাল মিয়া প্রমুখ। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা মোশারেফ হোসেন, ইউপি সদস্য সালেক তালুকদার, ছাত্র সমাজ নেতা শিমুল আকন, আফজাল সরদার, শিশির দত্ত, ফোরকান মুন্সী, মহিলা ইউপি সদস্য মঞ্জুরানী সিংহ, বেবী আক্তার, ফাতিমা আক্তার। এর আগে জেপি চেয়ারম্যান ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটকানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কানুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড়কানুয়া ও গাজীপুরে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আলাপ করেন ও কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া বড়কানুয়া ইউপি সদস্য মানিক হাওলাদার, সমাজ সেবক বিমল বাঙ্গালী, অরুণ কুমার মণ্ডল, মনরঞ্জন বিশ্বাস, বিজয় বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।