ভুল চিকিত্সায় রোগীর মৃত্যু

চিকিত্সকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ভুল চিকিত্সায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তিন চিকিত্সকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আকতারুজ্জামান এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৫ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন। অভিযুক্ত চিকিত্সকরা হলেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের চীফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. অধ্যাপক ফারুক আহমেদ, সার্জিক্যাল রেসিডেন্ট ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক ডা. হারুন রশীদ ও চিকিত্সক সহকারী জলি। দণ্ডবিধির ৩০৪ ও ৩০৪(ক) ধারার অপরাধে অভিযুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মবিনুল ইসলাম, প্রিয়লাল সাহা ও সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমিন জেসী। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ভুল চিকিত্সায় মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ এনে মৃত হাবিবুর রহমানের মেয়ে ফাহিমা আক্তার বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে নালিশী এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় বলা হয়, বাদীনির বাবা মোঃ হাবিবুর রহমান বুকে ব্যথা নিয়ে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল এন্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ২২ অক্টোবর আসামিরা বাদীর বাবার হার্টে প্রথমবার অপারেশন করেন। এরপর ৩০ অক্টোবর তাকে হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। বাড়িতে যাওয়ার কয়েকদিন পরই সেলাইয়ের জায়গায় ইনফেকশন (সংক্রমণ) হয়। এরপর বাদী আসামিদের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু তাঁরা বাদীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হলে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিরা বাদীর বাবার হার্টে দ্বিতীয়বার অপারেশন করেন। এরপর গত বছরের ২০ জুলাই তৃতীয়বার, ৪ আগস্ট চতুর্থবার ও গত ১৪ আগস্ট পঞ্চমবার অপারেশন করা হয়। আরও বলা হয়, “আসামিরা রোগীর এনজিওগ্রাম করার সময় বাদীর বাবার হার্টের একটি বড় রক্তনালী ভুলে কেটে গেছে, যা বলাবলির সময় বাদীর বাবা শুনে ফেলেছিলেন। পরে এ বিষয়টি তিনি তার মেয়ে মামলার বাদী ও মামলার সব সাক্ষীদের জানান।” বাদী অভিযোগ করেন, পঞ্চম অপারেশনের পর বাদীর বাবার সঙ্গে তার কোনো আত্মীয়স্বজনকে কখনোই দেখা করতে দেয়া হয়নি। এরপর গত বছরের ১৮ আগস্ট বেলা ১২ টায় বাদীর বাবাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাদীদের কাছে পাওনা কোনো টাকা পয়সা না রেখেই তাড়াহুড়া করে হাসপাতাল থেকে লাশ বের করে দেয়া হয়। আসামিদের ভুল চিকিত্সা ও অবহেলার কারণেই বাবা মারা গেছেন মর্মে বাদীনি তার মামলায় অভিযোগ করেন।