আমার প্রিয় বই

কেপলার টুটুবি

২০১২ সালের ২১শে বইমেলায় যাবার জন্যে খুব আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। নির্ধারিত দিনে যাবার পর প্রথমেই গেলাম একটি ইয়ের স্টলে। সেখানে মুহম্মদ জাফর ইকবালের নতুন বই কেপলার টুটুবি কিনলাম, কারণ তিনি আমার সবথেকে প্রিয় লেখক। বাসায় এসেই পড়া শুরু করি। কাহিনীটি হল সায়েন্স ফিকশন। এখানে রবোমানবেরা পৃথিবীর মানুষের ওপর কব্জা করে নেয়। এখানে একজন রবোমানবী একজন ছেলের মস্তিষ্ক আলাদা করে তা থেকে গোপন তথ্য বের করে মস্তিষ্কটি বাঁচিয়ে রাখে। তখনকার পৃথিবীর নেতৃত্বে যিনি থাকেন- ‘মহামান্য বুল’ পৃথিবীর মতো অন্য একটি গ্রহ “কেপলার টুটুবি’-তে সাতজন মানুষসহ অসংখ্য ভ্রুণ, গাছপালা মহাকাশযানে করে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু তার মধ্যেও রবোমানবেরা দুইজন রবোমানব-মা ও ছেলেকে পাঠিয়ে দেয়। রবোমানব দেখতে মানুষের মতই। তাই তারা প্রথমে তাদের চিনতে পারেনি। কিন্তু ঘটনাচক্রে সাতজনকে মঙ্গলগ্রহে নামিয়ে দেয়া হয় এবং রবোমানবেরা একে অপরকে মেরে ফেলে। পৃথিবীতে যে নেটওয়ার্কের ওপর রবোমানবেরা দখল নিতে চেয়েছিল তা মহামান্য থুল একটু একটু করে বিকল করে দেন। এতে প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হলেও তিনি জানতেন মানুষ ঠিকই নেটওয়ার্ক ছাড়া চলতে পারবে। এভাবে পৃথিবী রবোমানবদের দখলদারি থেকে মুক্ত হয় এবং কেপলার টুটুবিতে মানুষ বসবাস শুরু করে। গল্পটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও আমার মনে হয় এই দেশের ইতিহাসের কথা, পাকিস্তানিদের অত্যাচার সয়েও এই দেশ যেভাবে স্বাধীন হয়েছিল। বইটি পড়লে তোমাদেরও ভাল লাগবে। ব্রততী চক্রবর্তী মৌলি সদস্য নম্বর: ৪৪ শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, মিরপুর-১৪, ঢাকা-১২০৬।