এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান
১২ দেশের ৫৫০ শিক্ষার্থীবারেক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:২৯
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান। সংক্ষেপে এইউডব্লিউ। চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়ার এম.এম আলী সড়কে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী ক্যাম্পাস। পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবাসন। প্রায় ১৩০ একর জায়গা নিয়ে মূল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হচ্ছে উত্তর পাহাড়তলি এলাকায়। এর নকশা করেছে বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান মোশি সাফদি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। পরিচালনায় রয়েছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান সাপোর্ট ফাউন্ডেশন।
জানা যায়, এশিয়ার মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেয়েদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। যাতে তারা শুধু এশিয়ায়ই নয়, পুরো বিশ্বই দাপিয়ে বেড়াতে পারেন নিজেদের যোগ্যতায়। এখানে ভর্তির ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা, সামাজিক সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রভৃতি দিকও মূল্যায়ন করা হয়। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন এখানে। দীর্ঘদিন এ দেশে থাকার ফলে তাদের অনেকেই নিজেদের এখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতাও বিচিত্র।
‘ভালোই আছি এখানে। সবকিছু মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। তাছাড়া আমরা তো এসেছি সব প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে। যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস আছে।’ কথাগুলো বলছিলেন আফগানিস্তানের মেয়ে ফরিদা রয়েশ। চোখ-মুখে তার প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। ফরিদার মতো দৃঢ় মনোবল দেখা গেছে শ্রীলঙ্কার কৌশিল আরিয়াথিলকা, পাকিস্তানের হুমায়রা নোরিন, ভিয়েতনামের জিয়াং থি হং, ভুটানের শেরিন ইয়োডন, নেপালের রোজি কারনা, মিয়ানমারের ই ই থু, ভারতের লিনটা রায়, বাংলাদেশের আজমিনা করিমের মধ্যেও। তারা নিজেদের প্রস্তুত করছেন সব সমস্যা-সংকট থেকে বেরিয়ে আসার মতো করেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। একটি অ্যাকসেস অ্যাকাডেমি, অপরটি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম। ২০০৮ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠা করা হয় অ্যাকসেস অ্যাকাডেমি। অ্যাকসেস অ্যাকাডেমি হচ্ছে একবছর মেয়াদি ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম। বলা যায়, এ সময়ে ইংরেজি মাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার উপযোগী করে তোলা হয় একজন শিক্ষার্থীকে। ইংরেজি, গণিত, কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়া হয়। এখান থেকে পর্যাপ্ত দক্ষতা লাভের পর এইউডব্লিওতে সরাসরি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে তালিকাভুক্ত হওয়া যায়। এতে আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিস, সোশ্যাল সায়েন্স, ন্যাচারাল সায়েন্সের ওপর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে ব্যাচেলর অব লিবারেল আর্টসে (বিএ) বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস, লিটারেচার অ্যান্ড উইম্যান স্টাডিস, পলিটিকস, ফিলোসফি, ইকোনমিকস, ইনফরমেশন কমিউনিকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি প্রভৃতি বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহা পারভেজ বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে এ দেশের বহু মেধাবী এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেয়েরাও।’ এইউডব্লিউর অ্যাকসেস অ্যাকাডেমি এবং আন্ডারগ্র্যাজুয়েট উভয় শিক্ষা কার্যক্রমেই প্রাথমিক ভর্তির যোগ্যতা হলো: বয়স ১৭ থেকে ২৫-এর মধ্যে হতে হবে এবং ১২ বছরের (১০+২) শিক্ষাজীবন পার করে আসতে হবে। এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ৬০ শতাংশের ওপরে নম্বর বা গ্রেড পেতে হবে। এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় ইংরেজিতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ স্কোর এবং সর্বশেষ গণিত পরীক্ষায় ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। সেই সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সম্ভাবনা, সামাজিক দায়বদ্ধতা বা অঙ্গীকার এবং যেকোনো ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও থাকতে হবে। আবেদনপত্র ওয়েবসাইট (www.asian-university.org) থেকে নামানো যাবে।
ড. ফাহিমা আজিজ
ভাইস চ্যান্সেলর
আমরা আমাদের সকল শিক্ষার্থীকে সমান চোখে দেখি। কে কোন দেশ থেকে এসেছে সেটা মুখ্য বিষয় নয়। সবাইকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমারা শতভাগ চেষ্টা করি। সবার মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার পাশাপাশি সুপ্ত প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করার পরিবেশ সৃষ্টি করি। নারীদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তেরি করি। আমি আশা করি, এখানকার অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ব দরবারে এশিয়ার নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। আমাদের ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
--
গঙ্গা সিলভা গুনারত্নে
শিক্ষার্থী
স্বপ্ন দেখতে ভালবাসেন রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি নিয়ে পড়ুয়া শেষ বর্ষের এ শিক্ষার্থী। মাতৃভূমি শ্রীলংকা হলেও বাংলাদেশকে অনেক ভালবাসেন। কারণ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু এ দেশের মাটি থেকে। পড়াশোনা শেষ করে জাতিসংঘে নীতি-নির্ধারক হিসেবে কাজ করতে চান। অবসর সময় বই পড়ে কাটলেও ভাল ক্রিকেট খেলেন তিনি। অনেক ভাগ্যবতী গঙ্গা। এটার অবশ্য একটা বড় কারণ রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড ইউনির্ভাসিটিতে পাবলিক পলিসির উপর মাস্টার্স করার স্কলারশিপ পেয়েছেন। এদেশে থেকে থেকে দেশটাকে অনেক আপন মনে হয়।
----
তানজিনা তারিক
শিক্ষার্থী
ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়ে না উঠলেও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইম্যান এ পাবলিক হেলথ ও বায়োলজিকেল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা সুযোগ পেয়ে জীবনের পথ খুঁজে পেয়েছেন চট্টগ্রামের এ মেয়েটি। পড়াশোনা শেষ করে দেশের অবহেলিত, ছিন্নমূল, পথশিশুদের জন্য কিছু একটা করতে চান। সময় পেলে বেড়িয়ে পড়েন পথশিশুদের সাথে সময় কাটানোর জন্য। পড়ালেখার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করেন। তাছাড়াও বিতর্কে বেশ পারদর্শী। সদাসর্বদা ভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তানজিনা।