উখিয়ায় সবজি চাষে নূর বেগমের সাফল্য

উখিয়া অজপাড়া গাঁ কুতুপালং পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী নুর বেগম (৬৫) বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। নুর বেগমের সবজি ফলনের সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছে। কয়েক দিন আগে ঐ গ্রামে গেলে সবজি ক্ষেতে পরিচর্যারত নুর বেগম জানান, প্রায় ৮ বছর পুর্বে স্বামী মারা যাওয়ার পর ৩ মেয়েকে নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছিলাম। স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় এক মেয়ের বিয়ে হলেও অন্য ২ মেয়েকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হই। ঘরে কোন ছেলে সন্তান বা স্বামী রেখে যাওয়া কোন সহায় সম্বল না থাকায় মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোন মতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। দুঃখ কষ্টের মাঝে বেেঁচ থাকার অবলম্বন খুঁজতে গিয়ে তিনি সবজি চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বন বিভাগের পরিত্যক্ত প্রায় ১০ শতক পাহাড়ি জমিতে তিত করলা, চিচিংগা, ঝিংগে, বরবটিসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ শুরু করেন। গত কয়েক বছরে সবজি চাষ করে তিনি তার ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেনসবজি চাষের আয় থেকে তিনি একটি গাভী কিনেছিলেন শুরুতেই। বর্তমানে তার ঘরে ৩টি গরু, ৫টি ছাগল ছাড়াও হাঁস-মুরগী রয়েছে। বসত ঘরটিও মোটামুটিভাবে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে[ তোলা হয়েছে। স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ আব্দুল আলম (৭০) বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর নুর বেগম খুবই কষ্ট করে নিজের সংসার আগলে রেখেছেন। পাশের বাড়ির আমিনা খাতুন (৪৫) জানান, নূর বেগমের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তার বসতভিটার ৫ শতক জায়গার উপর বরবটি, বেগুন, ঢেড়স প্রভৃতি চাষ করে আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছেন। চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। স্থানীয় সবজি চাষিরা বললেন কৃষি অফিসের মাঠ কর্মীদের নিয়মিত পরামর্শ ও সাহায্য সহযোগিতা পেলে সবজি চাষে তারা আরো সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার ইউছূপ ভূঁইয়া জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪ শত একর জমিতে সবজি চাষাবাদ হয়েছে। কোনরূপ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ার ফলে এবারে সবজির বাম্পার উত্পাদন হয়েছে।