ভারতীয় নিম্নমানের বীজে সয়লাব কুড়িগ্রামের বাজার
ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৭
কুড়িগ্রামে বিএডিসি’র সরবরাহকৃত পাটবীজের উপর কৃষক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিবিড় তদারকি এবং বিষয়টি কৃষকদের নজরে না আনায় ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে অধিকাংশ কৃষক ব্যাপকহারে ভারতীয় নিম্নমানের পাটবীজ ব্যবহার করছেন। বীজ বপনের মাঝামাঝি এ সময়ে বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন পর্যন্ত কোন ডিলার বিএডিসি’র বীজ সংগ্রহ করেনি। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার জেলায় ২৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা ভারতীয় বীজে সয়লাব হয়ে গেছে এবং কৃষকের চাহিদা না থাকায় ডিলাররা বিএডিসি থেকে বীজ উত্তোলন করছে না।
জানা যায়, জেলার নয় উপজেলাতে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ভারতীয় জেআরও-৫২০ বীজ বিভিন্ন নামে খোলা বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এসব নিম্নমানের বীজ বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাচারও করা হচ্ছে। হাতের কাছে সহজে এবং সুলভ মূল্যে পাওয়ায় কৃষকরা এসব নিম্নমানের ভেজাল বীজ সংগ্রহ করছে।
কুড়িগ্রাম সদরের চর এলাকার চাষী রাজু মন্ডল, নাগেশ্বরীর ভিতরবন্দের কৃষক নওশাদসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, সবাই বলে বিদেশি বীজ ভাল তাই লাগাচ্ছি। তাছাড়া বিএডিসি’র বীজ কোথায় পাওয়া যায়, এ কৃষক তা জানেন না। তিনি বলেন, চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৭ বিঘা জমিতে ভারতীয় ধানের শীষ মার্কা পাটবীজ বুনেছি। তখন পর্যন্ত ডিলারদের কাছে পাটবীজ পৌঁছায়নি। আমরা বিএডিসিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তাদের বেশিরভাগ বীজ গত বছরের। এছাড়াও বিএডিসি’র প্রতি কেজি বীজের মূল্য ১৪২ টাকা। যেখানে ভারতীয় বীজ ১১২ থেকে ১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও চাষীরা ভারতীয় বীজ কিনছে । তিনি আরও জানান, জেলার যাত্রাপুর হাট ও পাখিউড়া হাট থেকে অধিকাংশ কৃষক ভারতীয় পাটবীজ সংগ্রহ করছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, ডিলারের কাছে গিয়ে আমরা বিএডিসির বীজ পাই না। যারা বীজ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তাদের সিংহভাগই ভারতীয় বীজ বিক্রি করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর কুড়িগ্রাম জেলার নয় উপজেলার মধ্যে কুড়িগ্রাম সদরে ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে, উলিপুরে ৩ হাজার ৯০০ হেক্টর, চিলমারীতে ৩ হাজার ৭০৪৭ হেক্টর, রৌমারীতে ৩ হাজার ২৯১ হেক্টর, রাজিবপুরে ৩ হাজার ৬০৩ হেক্টর, ভুরুঙ্গামারীতে ৩ হাজার ৬০৫ হেক্টর, নাগেশ্বরীতে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ৭৮০ হেক্টর এবং রাজারহাটে ৯৮২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অধিকাংশ জমিতে পাটবীজ বপন করা হলেও ডিলাররা সেভাবে বিএডিসি’র বীজ উত্তোলন করেনি।কুড়িগ্রাম বিএডিসি সূত্র জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ১শ কেজি পাটবীজ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়াও সরকারিভাগে ভারত থেকে আমদানি করা ন্যাশনাল সীড কর্পোরেশন লিমিটেডের জেআরও-৫২০ বীজ ১ হাজার ২শ কেজি বীজ বরাদ্দ আসে। জেলায় তিনটি সেল সেন্টার কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর এবং নাগেশ্বরী। ১৩০ জন ডিলারের মাধ্যমে পাটবীজগুলো বিতরণের কথা থাকলেও সদরে মাত্র ৩ জন ডিলার এবং রাজিবপুর উপজেলায় ১ জন ডিলার মাত্র ৭৭২ কেজি বীজ সংগ্রহ করেছেন। বাকি ৭ উপজেলায় কোন ডিলার বিএডিসি’র পাটবীজ উত্তোলন করেননি।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মন্ডল জানান, এখনো অর্ধেক কৃষক বীজ বপনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের বিএডিসির সাথে সম্পৃক্ত করা সম্ভব।