কর্ণফুলীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং যথাসময়ে শেষ হবে তো?

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এর কাজ শেষ করার তাগাদা দিলেও বাস্তবে তা সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নামে নদীর বিরাট অংশ ভরাট করা হয়েছে। এতে করে নদীর প্রস্থ সংকুচিত করার ফলে বর্ষার সময়ের বিরূপ প্রভাব পড়বে। অতিরিক্ত ভরাটের ফলে নদীর প্রস্থ পূর্বের তুলনায় কয়েকশ’ মিটার কমে যাবে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সম্প্র্রতি সরেজমিন ক্যাপিটাল ড্রেজিং এলাকা পরিদর্শন করে এ অভিযোগ করেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এন্ড ড্রেজিং কোম্পানির (এমএমডিসি) পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রকল্পের উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান বুয়েটের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিজাইন অনুযায়ী ড্রেজিং কাজ করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২ এপ্রিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের পরিচালক, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ডাকা হয়। মন্ত্রণালয়ের উক্ত বৈঠকে বুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্ণফুলীর নদীর প্রস্থ পূর্বের তুলনায় কমবে না। বরং প্রায় ১০০ মিটার বৃদ্ধি পাবে। বৈঠকে বিশেষজ্ঞগণ বলেন, কর্ণফুলী নদীর জোয়ার ভাটার ওপর ভিত্তি করে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ব্যাংক লাইনকে বিবেচনায় নিয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের ডিজিটাল ডিজাইন করা হয়েছে। এদিকে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে গত সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ড্রেজিং এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম আগামী ১১ এপ্রিল ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের সকল কাগজপত্র নিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ঢাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরে শুনানিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়। চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পটি ২২৯ কোটি টাকায় মালয়েশিয়ান মেরিটাইম ড্রেজিং কোম্পানি (এমএমডিসি) সম্পন্ন করার জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কার্যাদেশ পায়। প্রকল্পটির কাজের মেয়াদ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়াসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হয়। প্রকল্পটি আগামী জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের ডিজাইন ড্রয়িং এবং কাজের ব্যাপারে অভিযোগ ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে যথাসময়ে কাজ সম্পন্নের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীর গভীরতা ৪ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করার মূল লক্ষ্য নিয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ প্রকল্পের অধীনে ড্রেজিং ছাড়াও সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী সেতুর উজানে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত নদীতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া জেটি ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।