রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২৯ এপ্রিল

আগামী ২৯ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ বৈঠক করেন। নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে জানান, গতকালই রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের তফসিল সম্পর্কে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে এই রিটে। এ রুলের ওপর শুনানি না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, এই রিট সম্পর্কে কমিশন অবহিত নয়। আর এ ধরনের রিট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন না। রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের তফসিল সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২৯ এপ্রিল সংসদ কক্ষে বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত ভোট নেয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকবেন। সংসদের অন্যান্য কার্যাবলী এইদিন বন্ধ থাকবে। আগামী ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ২২ এপ্রিল এবং প্রত্যাহার ২৪ এপ্রিল। প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী এমন শূন্যতার প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ অনুযায়ী আগামী ১৯ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার কথা। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ এডভোকেট অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনিসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা-নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানার নাম এ তালিকার মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই। সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; তবে শর্ত থাকে যে, যে সংসদের দ্বারা তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সেই সংসদের মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল (পাঁচ বছর) শেষ হলে সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন হবে না, এবং সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূরণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ গতকাল এই রিট করেন। রিটে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। রিট আবেদনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে কেন সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে। রিটে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ বিষয়ক সচিবালয়ের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ২৭ অুনচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার। কিন্তু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এ অধিকারকে খর্ব করেছে। রিট আবেদনে বলা হয়, এ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় নিরপেক্ষ কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাদের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হতে হলে তার প্রস্তাবক ও সমর্থককে হতে হবে সংসদ সদস্য। দলীয় প্রার্থী ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য প্রস্তাবক ও সমর্থক হতে পারছেন না। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিলে সংসদ সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। রিট আবেদনে আরো বলা হয়, ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানের ৭ (১), ১৯ (১,৩), ২৬, ২৭ ও ১১৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্য, ১৯ অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা, ২৬ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল, ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের বিষয়ে বলা আছে।