থ্যাচারের প্রতি বিশ্বনেতাদের শেষ শ্রদ্ধা, শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৬
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লৌহমানবী খ্যাত এ নেত্রীর অসীম সাহসিকতা ও সুদৃঢ় সংকল্পেরও প্রশংসা করেছেন তারা। ক্ষমতায় থাকাকালে ব্রিটেন ও এর বাইরে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ থ্যাচারকে দায়ী করেন। তবে মৃত্যুর পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে বিংশ শতকের ইতিহাসে তার সুদৃঢ় অবস্থানের কথা এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। এদিকে, সাবেক এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ডাউনিং স্ট্রিটের দফতর থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
থ্যাচারের পরিবার ও বাকিংহাম প্রাসাদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সেন্ট পল’স ক্যাথেড্রালে লেডি থ্যাচারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, থ্যাচার সোমবার সকালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। খবর:এএফপি।
মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার একজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারাল। তাকে ‘একজন মেধাবী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ বলে সম্বোধন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই জার্মানির একত্রীকরণের স্থপতি হিসেবে পরিচিত জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোল থ্যাচারের অবাধ স্বাধীনতাপ্রেম, খোলা মানসিকতা ও স্পষ্টবাদিতার প্রশংসা করেন।
সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ বলেন, মার্গারেট থ্যাচার ‘স্মৃতি ও ইতিহাসে’ বেঁচে থাকবেন।
পোপ ফ্রান্সিস থ্যাচারের মুত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের জনগণের অবাধ স্বাধীনতা সমপ্রসারণে থ্যাচারের ভূমিকা এবং খ্রিস্টান মূল্যবোধ ছিলো প্রশংসনীয়।
জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল তাকে ‘অসাধারণ নেতা’ হিসেবে উল্লে¬খ করেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, তিনি ব্রিটেনের ওপর গভীর ছাপ রেখে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টে জর্জ ডব্লি¬উ বুশ তাকে দুর্লভ চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়াও বিশ্বের অনেক দেশের বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রনায়কেরা থ্যাচারের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে, মার্গারেট থ্যাচারের মৃত্যুর পর তার নিজ দেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে থ্যাচারের সমর্থকরা লন্ডনস্থ তার বাড়ির সামনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা বিশেষত বামপন্থীরা তার মৃত্যুতে রাস্তায় উত্সব করছেন। থ্যাচার বিরোধী একদল লোকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।